যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন

শত বছর পর কানসাসে ডেমোক্র্যাট সিনেটর, ‘ভেটো’ দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ PM , আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ PM
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন।

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের ঘাঁটি কানসাসে প্রায় ৯৪ বছর পর সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করে এই ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন তিনি।

একই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। এতে প্রেসিডেন্টের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারির সুযোগ পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কাজ করার কথা বললেও ‘অযৌক্তিক’ কোনো বিল পাস হলে তাতে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও আলজাজিরার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কানসাসের সিনেট আসনে জয়ী হন ৬২ বছর বয়সী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। ১৯৩২ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটি থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। তিনি পরাজিত করেছেন ২০২০ সালে নির্বাচিত বর্তমান সিনেটর রজার মার্শালকে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর নির্বাচনী পূর্বাভাসে হ্যামিল্টনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাস। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে ১৬ শতাংশের বেশি ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে সেখানে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়কে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে হ্যামিল্টন জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা ও দুই দলের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। নিজেকে ‘স্বাধীন চিন্তাধারার ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মার্শাল ছিলেন ট্রাম্পের নীতির সমর্থক। প্রচারের শেষ দিকে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্শালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন।

জয়ের পর ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন হ্যামিল্টন। তিনি বলেছেন, ‘কানসাসের মানুষ—রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র ভোটাররা ওয়াশিংটনে যা ঘটছে, তা ঠিক নয় বলে মত দিয়েছেন।’ তিনি দুই দলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

আলজাজিরা জানিয়েছে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সব সময় বলা হয়, রাজনীতি কিংবা ধর্ম নিয়ে কথা বলতে নেই। কিন্তু এবার আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষার চেষ্টা করছি। আগামী দুই বছর আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।’

হ্যামিল্টন দেশটির বৃহত্তম ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার প্রতিষ্ঠাতা ও যাজক। খ্রিষ্টধর্ম ও ধর্মতত্ত্ব নিয়ে ৩০টির বেশি বই লিখেছেন তিনি। এর আগে তাঁর কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ছিল না। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বিভিন্ন মতের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

সিনেটে হারল রিপাবলিকানরা
কানসাসের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার জয় পেয়েছেন রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে। টেক্সাসে জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। ওহাইওতে শেরড ব্রাউনও রিপাবলিকান জন হাস্টেডকে হারিয়ে সিনেট আসন পুনরুদ্ধার করেছেন।

আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের ৪৫ জন এবং তাঁদের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিলেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। নির্বাচনের ফলাফলে সেই লক্ষ্য পূরণ করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে দলটি।

প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ২০টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনেই জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষ থাকবে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে।

এতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের। প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ, সরকারি ব্যয়, ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত শুরু করতে পারবেন তাঁরা। পাশাপাশি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন আটকে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

ভেটোর হুমকি ট্রাম্পের
নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানান তিনি। অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের আনা সব প্রস্তাবে সমর্থন দেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা কোনো ‘অযৌক্তিক’ বিল পাস করলে তাতে ভেটো দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভেটো’ লেখা একটি টুপির ছবিও প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছেন, 'আমার মনে হয়, তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে চাইবে। তা না হলে আমি সবকিছুতেই ভেটো দেব। আর তারা নিশ্চয়ই সেটা চাইবে না।' মধ্যবর্তী নির্বাচনে এত বেশি রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে যাওয়ার কারণ হিসেবে নিজের নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়াকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়েছে, আমি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম না। এ বিষয়ে আমার কিছুই করার ছিল না। আমি প্রার্থী থাকলে আমরা জিততাম।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ভেটো দিতে পারেন। তবে সেই ভেটো অকার্যকর করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রেসিডেন্টের সম্মতি ছাড়া সব আইন কার্যকর করা সহজ হবে না।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারের প্রধান বিষয় ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দুর্নীতির অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডিজেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৭০০ কাউন্টির অধিকাংশ জায়গায় রিপাবলিকানদের ভোট কমেছে। ধনী-দরিদ্র, উচ্চশিক্ষিত ও কম শিক্ষিত—বিভিন্ন শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বেড়েছে। বিশেষ করে লাতিনো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দলটির অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

কানসাসের নির্বাচনে কৃষকদের অর্থনৈতিক দুরবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হ্যামিল্টন ও মার্শাল—দুই প্রার্থীই ডিজেল ও সারের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেন। রয়টার্স জানায়, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন। তাঁদের উগ্র ও চরমপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন ট্রাম্প ও তাঁর দলের নেতারা। তবে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ ছিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও নীতির প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষে এসএসআরএস পরিচালিত জরিপে অর্ধেক ভোটার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ জানানোর সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন।

জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ নির্বাচনের ফল নিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অদক্ষতার বিরুদ্ধে জোরালো ও নির্ণায়ক রায় দিয়েছেন।’

তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের বিরুদ্ধে গণভোট হিসেবে দেখতে রাজি নন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, নিজে প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতেন। নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পরও দলের প্রার্থীদের প্রচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার পর ট্রাম্প আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব ও উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে। তবে তার আগে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি ও আলজাজিরা।

মার্কিন সিনেটে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পেছাবে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সূর্য ওঠার আগেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টায়ারে আগুন, ছাত্রল…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
তাহসিফের লাশ উদ্ধারের মামলায় ফের তিন দিনের রিমান্ডে বান্ধবী…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রাথমিকে আসছে মনিটরিং নীতিমালা, পরিমার্জিত হচ্ছে কারিকুলাম…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
৪ ডিসেম্বর হচ্ছে না মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950