রয়টার্সের জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, ট্রাম্পের পক্ষে কতটা জনসমর্থন?

০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ AM , আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে, যা তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তার কাছাকাছি। অন্যদিকে কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। স্বতন্ত্র ভোটারদের অর্ধেকই জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট হবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) শেষ হওয়া জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগের জরিপেও তার সমর্থনের হার একই ছিল। এর আগে দুই সপ্তাহ আগে তা কমে ৩১ শতাংশে নেমেছিল, যা ছিল তার সর্বনিম্ন রেকর্ড। অর্থাৎ সর্বশেষ জরিপে সামান্য উন্নতি হলেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনো তলানির কাছাকাছি।

তবে এই ৩২ শতাংশকে সরাসরি ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়ার হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাজের প্রতি মানুষের অনুমোদনের হার। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন; ভোটাররা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্য নির্বাচন করবেন। তারপরও তার জনপ্রিয়তা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ভোটারদের একটি বড় অংশ কংগ্রেস নির্বাচনে নিজেদের ভোটকে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বা বিরোধিতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

কংগ্রেস নির্বাচনে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে জরিপে ৪৬ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে দল দুটির মধ্যে ব্যবধান ৮ শতাংশ পয়েন্ট।

এ ধরনের প্রশ্নকে ‘জেনেরিক ব্যালট’ বলা হয়। এর মাধ্যমে ভোটাররা জাতীয় পর্যায়ে কোন দলকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে দেখতে চান, সে বিষয়ে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটি আসনভিত্তিক নির্বাচনের ফলাফল সরাসরি বলে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্য ও নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, স্থানীয় ইস্যু এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরনও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এক সপ্তাহ আগে দলটি রিপাবলিকানদের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। এখন সেই ব্যবধান ৮ শতাংশ পয়েন্ট। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও দুই দলের মধ্যকার ব্যবধান কমেছে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র ভোটারদের অবস্থান
জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বতন্ত্র ভোটারদের মনোভাব। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, এমন ভোটারদের অবস্থান অনেক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের ৫০ শতাংশ বলেছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের ভোট হবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। মাত্র ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের ভোট হবে ট্রাম্পের পক্ষে। আর ৩৩ শতাংশ বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প কোনো বিবেচ্য বিষয় নন।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, স্বতন্ত্র ভোটারদের একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ওই ৫০ শতাংশ ভোটার সবাই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। জরিপে তারা নিজেদের ভোটকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা সরাসরি দলীয় পছন্দের সমান নয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর চাপ তৈরির পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। জরিপে ৭৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। এই বিষয়ে কোন দল ভালো করবে—এমন প্রশ্নে ৪৩ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায়ও ভোটারদের কাছে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে এবং রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনী ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভোট দিতে আগ্রহী ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা
জরিপে ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। ৪৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে তারা ‘খুবই আগ্রহী’। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এ হার ৩৩ শতাংশ।

ডেমোক্র্যাটরা আশা করছেন, তাদের সমর্থকদের এই আগ্রহ ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। কারণ, নির্বাচনে কোনো দলের প্রতি সমর্থন থাকলেই তা ভোটে রূপ নেয় না। সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়াও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জরিপে প্রকাশিত আগ্রহের হার বাস্তবে কতটা ভোটার উপস্থিতিতে রূপ নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলবিদদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সুযোগ বেশি। এই পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই নির্বাচন হচ্ছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া দলটির জন্য তুলনামূলক কঠিন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলাস্কা ও মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকলেও তা দিয়ে কংগ্রেসের কোন দল নিয়ন্ত্রণ পাবে, নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলো আলাদা আলাদা নির্বাচনী এলাকায় নির্ধারিত হয়। কোনো দল জাতীয়ভাবে বেশি ভোট পেলেও আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।

রিপাবলিকানদের জন্য এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের জনপ্রিয়তা ও কাজের মূল্যায়ন ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। ট্রাম্পের কাজের প্রতি কম সমর্থন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় অংশের বিরোধী মনোভাব দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও আসনভিত্তিক ফলাফলই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে।

রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৭৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর পরিচালিত হয়। জরিপটির ভুলের সীমা ২ শতাংশ পয়েন্ট।

সূত্র: রয়টার্স

ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার, আবারও …
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
বেশি নুন খাওয়ার অভ্যাসে বাড়ছে রক্তচাপ, ঝুঁকি কমাতে পাতে পা…
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
কতটা গরম চা খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ আজ
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
কণ্ঠনালিতে ক্যান্সার, যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, ট্রাম্পের পক্ষে কতটা …
  • ০৩ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950