মোদি ও পুতিন © সংগৃহীত
কূটনীতির মঞ্চে বৈঠক আর করমর্দনের বাইরেও যেন নতুন বার্তা দিচ্ছে গাড়ি! দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আবারও একই লিমুজিনে চড়ে যাত্রা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে তাদের এই যৌথ গাড়ি সফর ছিল চতুর্থবারের মতো।
ব্রিকস সম্মেলনের এক দিন আগে শুক্রবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ভারত মণ্ডপম চত্বরে আয়োজিত ইনোপ্রম প্রদর্শনীতে যেতে একই গাড়িতে ওঠেন দুই নেতা।
গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের সময় প্রথমবার পুতিনের সঙ্গে একই গাড়িতে চড়েছিলেন মোদি। এরপর আরও দুইবার তারা একসঙ্গে গাড়িতে ভ্রমণ করেন। শুক্রবারের যাত্রার মধ্য দিয়ে তাদের যৌথ গাড়ি সফরের সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে।
ইনোপ্রম একটি আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎপাদক ও ক্রেতাদের একত্রিত করার পাশাপাশি এখানে আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ রয়েছে। এটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বি-টু-বি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিনকে তামিল ভাষার প্রাচীন শাস্ত্র ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষায় অনূদিত একটি সংস্করণ উপহার দেন মোদি। তাঁতশিল্পী ও সাধক তিরুভাল্লুভার এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন।
পুতিনকে বইটি উপহার দেওয়ার সময় মোদি বলেন, ‘দুই হাজার বছর আগে তিরুভাল্লুভার তিরুক্কুরাল লিখেছিলেন। এতে মানুষের জীবনের পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এটি রুশ ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে তিরুক্কুরাল রুশ ভাষায় অনূদিত হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে, যা আমাদের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও মোদি লেখেন, ‘মহান তিরুভাল্লুভারের চিরন্তন জ্ঞানকে ভাষা ও সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে দিতে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে তিরুক্কুরালের রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দিয়েছি।’
মস্কো নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং সামরিক সরঞ্জামের বড় সরবরাহকারী। শুক্রবারের কর্মসূচিতে সম্মেলনকেন্দ্রে দুই নেতাকে হাসিমুখে একে অপরের পিঠে হাত রাখতে দেখা যায়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এই সম্মেলনকেন্দ্রেই ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোদি পুতিনের সঙ্গে ভারত-রাশিয়ার বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নেতারা বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। এগুলো দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে রয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তারা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে সংঘাত সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ভারত প্রস্তুত।’
পুতিন সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন। তবে চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে দুই নেতা আবারও সাক্ষাৎ করেন।