ইরান যুদ্ধের মাঝে আমেরিকান সেনা সচিবের পদত্যাগ, নেপথ্যে কি হেগসেথের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ AM , আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ AM
 প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও প্রতিরক্ষা সচিব ড্যান ড্রিসকল

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও প্রতিরক্ষা সচিব ড্যান ড্রিসকল © সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সেনা সচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ড্যান ড্রিসকল। সোমবার তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। তবে কেন তিনি পদ ছাড়লেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এর মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে ড্রিসকলের ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল।

গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেনা সচিবের দায়িত্ব নেন ড্রিসকল। দায়িত্ব নেওয়ার পর মার্কিন সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে হেগসেথ প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক পরিবর্তন আনলে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে।

গত এপ্রিলেই সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেন হেগসেথ। ইউরোপ ও আফ্রিকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকা জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুও একই সময়ে পদত্যাগ করেন। জর্জকে সরানোর খবর প্রকাশ্যে আসার পর ড্রিসকল অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

এরপর জর্জের স্থলাভিষিক্ত হন জেনারেল ক্রিস্টোফার লানিভে। একই সময়ে ড্রিসকলের সময়ে শুরু হওয়া সেনাবাহিনীর কিছু আধুনিকীকরণ প্রকল্পও বন্ধ করে দেন হেগসেথ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এসব সিদ্ধান্তের পর পেন্টাগনে দুজনের মধ্যে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

ড্রিসকলের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ার আগে ভ্যান্সের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ইউক্রেনকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে প্রশাসনের ভেতরে ড্রিসকলের অবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো।

সামরিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ড্রিসকল ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে আর্মার অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইরাকে মোতায়েন ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা ও দাদাও মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন।

২০২৪ সালে ট্রাম্প তাঁকে সেনাসচিব পদে মনোনীত করেন। সে সময় ড্রিসকলকে ‘পরিবর্তনের কারিগর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ যখন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ প্রশাসনিক পদগুলোর একটি থেকে ড্রিসকলের সরে দাঁড়ানো নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে হেগসেথের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগের কারণ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে ড্রিসকলের পদত্যাগের পেছনে হেগসেথের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বই মূল কারণ কি না, সে বিষয়ে এখনো হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পদ্মা সেতুর ঢালে বাস দুর্ঘটনা: ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত?
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পে স্কেল দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা কল্যাণ সমিতির, দ্রব্যমূলের সাথে বে…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া গভর্নিং বডির শিক্ষক বরখাস্তের সিদ্ধান্…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আজ সভায় বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এ…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাস করা বিষয়েই ইমপ্রুভমেন্টে ফেল দেখাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরান যুদ্ধের মাঝে আমেরিকান সেনা সচিবের পদত্যাগ, নেপথ্যে কি …
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬