ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো © সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের কারাগারে বন্দি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর দুটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। প্রায় দুই মাস আগে তোলা ছবিগুলো রবিবার তাঁর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়। ছবিতে ধূসর ট্র্যাকসুট পরা মাদুরোকে দুই হাত তুলে ভিক্ট্রি সাইন দেখাতে দেখা গেছে। সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি নিজের সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আমরা শক্ত থাকব, শান্ত থাকব, আত্মবিশ্বাসী থাকব।’
গত জানুয়ারিতে কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন সেনারা। পরে তাদের নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে দুজনকেই ব্রুকলিনের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। মাদক পাচার ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তবে তারা দুজনই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মাদুরোর ছবি প্রকাশের সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল নিয়ে একটি বড় চুক্তির পথে এগোচ্ছেন, ঠিক তখনই কারাগারে থাকা মাদুরোর ছবি সামনে এলো। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক তেল চুক্তির ঘোষণা দেন।
রবিবার প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর রঙের ট্র্যাকসুট পরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি দুই হাত তুলে ভিক্ট্রি সাইন দেখিয়েছেন। ছবিতে আগের তুলনায় তাঁকে কিছুটা রোগা দেখাচ্ছে। তবে ছবিতে তাঁর মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ রয়েছে।
যদিও ছবিগুলো রবিবার প্রকাশ্যে এসেছে, ক্যামেরার মেটাডেটা অনুযায়ী সেগুলো ২৫ জুন তোলা হয়েছিল। অর্থাৎ, ছবিগুলো প্রায় দুই মাস আগের। নিউ ইয়র্কের কারাগার থেকে ছবিগুলো কীভাবে বাইরে এলো, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মাদুরোর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কে ছবিগুলো পোস্ট করেছেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে মাদুরো তাঁর নাতি-নাতনি, ছেলেমেয়ে এবং সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘আমার নাতি-নাতনি, ছেলেমেয়ে এবং আমাদের ভালোবাসেন এমন ভালো মানুষের জন্য এই ছবিগুলি উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছি।’
এরপরই তিনি নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন। ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো লেখেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে। আমরা শক্ত থাকব, শান্ত থাকব, আত্মবিশ্বাসী থাকব। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন। ভেনেজুয়েলা আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
কারাগারে মাদুরোর জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাগারে তাঁকে সংবাদপত্র পড়ার কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি রয়েছে তাঁর।
মাদুরোকে প্রতি মাসে মোট ৩০০ মিনিট ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিটি ফোনালাপের সময়সীমা ১৫ মিনিটের বেশি নয়।
মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা জানিয়েছেন, কারাগারে তাঁর বাবা ভালো আছেন। বেশির ভাগ সময় তিনি বাইবেল পড়ে কাটাচ্ছেন বলেও জানান মাদুরোর ছেলে।
এদিকে মাদুরোর ছবি প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টা আগে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় একটি তেল চুক্তির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআরে সংরক্ষণ করা হবে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার এই তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য ‘ভেনেজুয়েলার উপহার’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেলবিষয়ক বড় চুক্তির আলোচনা চলায় মাদুরোর ছবি প্রকাশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কারাগারে থাকার পর এই প্রথম মাদুরোর সাম্প্রতিক সময়ের কোনো ছবি প্রকাশ্যে এলো। ছবিতে তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা রোগা দেখালেও নিজের বার্তায় সমর্থকদের শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ‘ভেনেজুয়েলা আবার ঘুরে দাঁড়াবে’ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।