কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বক্তা থাকায় সেমিনার বন্ধ করল দিল্লির পুলিশ

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৬ PM , আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৮ PM
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বক্তা থাকায় সেমিনার বন্ধ করল দিল্লির পুলিশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বক্তা থাকায় সেমিনার বন্ধ করল দিল্লির পুলিশ © টিডিসি সম্পাদিত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে ‘নতুন বিতর্ক এড়াতে’ একটি সেমিনার বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের দিল্লির পুলিশ। এই সেমিনারে বক্তা হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) এই সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। এফসিসি সাউথ এশিয়া ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে 'ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়লগ টু আ পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি' শীর্ষক এ আয়োজন করছিল।

তবে 'কিছু বিতর্কের' কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে সেমিনারটি আয়োজনের অনুমতি দেয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার ও দ্য প্রিন্ট।

শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের ‘হস্তক্ষেপের’ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে এবং এই আকস্মিক পরিস্থিতি আয়োজকদের ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’।

এফসিসির এক কর্মকর্তা দ্য প্রিন্টকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিলক মার্গ থানায় গিয়ে তারা নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু থানার পক্ষ থেকে সিল ও স্বাক্ষরসহ চিঠিতে হাতে লিখে জানানো হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্ক থাকায় এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) শচীন শর্মা পুলিশি হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, এফসিসির কোনো প্যানেল আয়োজনে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং পুলিশ তাদের অনুষ্ঠানে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।

তবে নিরাপত্তা চেয়ে লেখা এফসিসির ওই চিঠির ছবি ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে, যেখানে পুলিশের মন্তব্য ও অনুষ্ঠান করার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেই লেখা রয়েছে। তিলক মার্গ থানার সিল ছিল এবং থানার ওসির স্বাক্ষরও দেখা গেছে সেখানে।

সেমিনারে আলোচকদের তালিকায় ছিলেন যারা
সেমিনারকে সামনে রেখে আয়োজকরা যে পোস্টার প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে বক্তা হিসেবে ১০ জনের নাম ছিল। ওই তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ। এছাড়া ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নূরুন নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম এবং নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার বীণা সিক্রি, সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আসিফ ইকবাল, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এ এফ এম গোলাম জিলানী নামও আলোচকদের তালিকায় দেখা যায়।

তবে ভিসা না পাওয়ায় জিলানী ভারতে যেতে পারেননি। তিনি দ্য ওয়্যারকে বলেন, তার ভিসার প্রক্রিয়া চলছিল এবং কেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। পুলিশ অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের কোনো বিষয় নেই দাবি করে জিলানী বলেন, এটি বাংলাদেশ বা ভারতের বিষয় নয়। এটি ইউরোপ-এশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে।

হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষা নিয়ে তারা কাজ করেন।

তবে দ্য ওয়্যার লিখেছে, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদন এবং ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইউরোপে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে আসছে।

কেন বন্ধ হল সেমিনার
এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পুলিশের নথিতে শুধু ‘কিছু বিতর্কের কারণে’ অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এফসিসির প্রেসিডেন্ট ওয়ায়েল আওয়াদ দ্য প্রিন্টকে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা’। কেন পুলিশ অনুমতি দেয়নি, তা তিনি জানেন না।

তবে এফসিসি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, গত ৫ অগাস্ট এই ক্লাবেই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আর তারপর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল বাংলাদেশ।

ওই সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত নেতাকে বক্তা হিসেবে রাখা এবং রোহিঙ্গা অধিকার কাজ করা আরেক বক্তার উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি নিয়ে দিল্লির আপত্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

কেউ ১ বছর, কেউ ৩-৪ বছর পরীক্ষা দিতে পারবেন না— শাস্তি পেলেন…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
ঢাবি শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা টিউশনির টাকা তুলে দিতে উদ্যোগ …
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
দূরত্ব ভাতা পাচ্ছেন চর ও দুর্গম এলাকার শিক্ষকরা
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়তাবাদ থেকে রাষ্ট্রসংস্কার: বিএনপি’র ৪৮ বছরের পথযাত্রা …
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
বিপিএল নিয়ে কোয়াব-বিসিবি বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত এলো?
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
মিরাজ শেখের পরিবারকে সামনে বসিয়ে গুমের ঘটনা অস্বীকার করলেন …
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬