হড়পা বানে কাদায় ঢেকে গেছে স্কুল, এক ফোনকলে দুই সন্তানের মায়ের কোলে ফেরার হৃদয়স্পর্শী গল্প

৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৬ AM
রিলিফ ক্যাম্পে হড়পা বানে সব হারিয়ে অসুস্থ মেয়েকে আগলে রেখেছেন বাবা

রিলিফ ক্যাম্পে হড়পা বানে সব হারিয়ে অসুস্থ মেয়েকে আগলে রেখেছেন বাবা © সংগৃহীত

দুই ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ২৮ বছর বয়সী মাট্টি মায়া তামাং। ঘরে ফিরে উল বুনতে শুরু করেছিলেন তিনি। হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিধ্বংসী হড়পা বান ভাসিয়ে নেয় বিস্তীর্ণ এলাকা। তাণ্ডব থামার পর স্কুলে ছুটে গিয়ে সন্তানদের খুঁজতে গিয়ে মাট্টির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। 

স্কুল ভবনের কোনো চিহ্ন নেই, চারদিকে শুধু কাদার স্তর। অসহায় মা ধরে নিয়েছিলেন, দুই সন্তানকেই হয়তো চিরতরে হারিয়েছেন। তবে বিপর্যয়ের দুই দিন পর এক সাংবাদিকের ফোন নম্বরই যে তাঁকে বড় ছেলের সঙ্গে মিলিয়ে দেবে, তা যেন এখনো অবিশ্বাস্য মাট্টির কাছে।

নেপালের রাসুয়া জেলার বাসিন্দা মাট্টি বুধবারের বিপর্যয়ের পর একের পর এক উদ্ধারকেন্দ্রে ছেলেদের খুঁজেছেন। হড়পা বান ধেয়ে আসতে দেখে সেদিন স্কুল থেকে দৌড়ে পালিয়ে পাশের জঙ্গলে একটি গাছে উঠে প্রাণে বাঁচে তাঁর আট বছরের ছেলে জোয়্যাল ঘালে। তবে এ ঘটনা তখনও জানতেন না মাট্টি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাট্টি বলেন, ‘চার নম্বর রেসকিউ সেন্টারে গিয়েও যখন ওদের দেখতে পাইনি, ধরেই নিয়েছিলাম ওরা আর নেই।’

হড়পা বান থেকে উদ্ধার করার পর জোয়্যালকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে রাসুয়া থেকে এয়ারলিফ্ট করে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়। সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সঙ্গে দেখা হয় রয়টার্সের এক সাংবাদিকের।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, আট বছরের জোয়্যাল তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাচ্ছে না। এ তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার হাসপাতালে যায় রয়টার্সের একটি দল। পরিবারের সন্ধান পেতে সুবিধা হবে এমন আশ্বাসে জোয়্যালকে দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করানো হয়। পরে হাসপাতাল ছাড়ার সময় নিজের ফোন নম্বর সেখানে দিয়ে আসেন ওই সাংবাদিক।

এর প্রায় এক ঘণ্টা পরই সাংবাদিকের কাছে ফোন আসে মাট্টির। ততক্ষণে পা ভাঙা ও মুখের কিছু অংশে আঘাত নিয়ে জোয়্যালকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। মাট্টি বলেন, ‘ওই সাংবাদিক যখন বললেন, আমার বড় ছেলে বেঁচে রয়েছে, কাঠমান্ডুতে তার চিকিৎসা চলছে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারিনি।’

এরই মধ্যে মাট্টি তার ছোট ছেলেরও সন্ধান পান। জাপানে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক বাবাও ততদিনে নেপালে ফিরে আসেন।

বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সঙ্গে যোগাযোগকারী সব বাস রুট বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। ফলে ছেলের কাছে যেতে চাইলেও মাট্টির পক্ষে কাঠমান্ডু যাওয়া সহজ ছিল না। পরে ওই সাংবাদিকের সহযোগিতায় চার ঘণ্টা সড়কপথে যাত্রা করে কাঠমান্ডু পৌঁছানোর ব্যবস্থা হয় তার।

শুক্রবার দুই ছেলেকে কাছে পেয়ে স্বস্তি ফিরে আসে মাট্টির জীবনে। ভাগ্যবান মা বলেন, ‘আবার যেন জীবন ফিরে পেলাম।’

হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই মাকে সেদিনের ঘটনা শোনায় জোয়্যাল। কীভাবে হড়পা বান আসতে দেখে দৌড়ে গিয়ে গাছে উঠে প্রাণে বেঁচেছিল, তা মাকে জানায় সে। এত ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও ভয় পেয়েছিল কি না মায়ের প্রশ্নে দুষ্টু জোয়্যাল শুধু দুই দিকে মাথা নাড়ে। ছেলের দুষ্টুমিতে মুচকি হেসে মাট্টি বলেন, ‘হাড় কিন্তু ওর আগেও ভেঙেছে।’

গ্র্যাজুয়েট হলেন ৫৯ বছর বয়সী সেই বেলায়েত শেখ
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে চোখের সামনে শিক্ষিকা স্ত্রীর মৃত্যু…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ, ইউজারনেম সংরক্ষণের সু…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
মোবাইলে নেপালের বিধ্বংসী ভিডিও দেখেই চলেছেন? মানসিক স্বাস্থ…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
শুটিং শেষে ঢাকায় ফেরার পথে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন অভিনে…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
হড়পা বানে কাদায় ঢেকে গেছে স্কুল, এক ফোনকলে দুই সন্তানের মায়…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬