ইরানের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে চীন © সংগৃহীত
ইরান ও দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারের ঘোষণার পর নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখান করেছেন । একই সঙ্গে বেইজিংয়ের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট নামের একটি নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরকেও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, কৌশলগত অবরোধ সত্ত্বেও চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চীনের মুখপাত্র লিন জিয়ান স্পষ্ট জানান, চীন ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিয়ে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিমাদেহ জানিয়েছেন, তেহরান এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের দুই বছর মেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল চীনে রপ্তানি হওয়ায় বেইজিং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সহজে মেনে নেবে না। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও মার্কিন-চীন সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।