ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল এক আরব দেশ

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৩ PM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

ইরানের সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে—এমন অভিযোগ এনে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে আবুধাবির এই অভিযোগ জোরগলায় অস্বীকার করে আসছে তেহরান। খবর আল জাজিরার

বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে এমন উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সমস্ত ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক দাবির পর এই কূটনৈতিক সিদ্ধান্তটি আসে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করেছে, যার মধ্যে একটি দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে পতিত হয়। পরবর্তীতে আরেক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সামুদ্রিক যান চলাচলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা এ অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাগাই এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের করা যুদ্ধের মধ্যে এটি একটি ‘ফলস ফ্লাগ অপারেশন’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত হতে পারে। এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবি প্রতিবেশ সুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি। একই সাথে তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতার ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পরদিন এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে যুদ্ধের শুরুর ছয় সপ্তাহে আমিরাতে থাকা মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র,ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২,২০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান। কয়েক দিন আগে হরমুজ প্রণালিতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি ট্যাংকারে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছিল তুলেছিল দেশটি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ট্রাম্প সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছেন। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিটের মতে, ‘আমিরাতের এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটনের আরোপিত যেকোনো নিষেধাজ্ঞার চেয়ে ইরানকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কারণ দুবাই গোপনে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছিল, যা চীন ও তুরস্ককে পেছনে ফেলে ইরানের বার্ষিক মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করত।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি দুবাই আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থার একটি প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় তা ইরানকে এতদিন বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ লেনদেনের এক গোপন পথ তৈরি করে দিয়েছিল। এই রুটটি বন্ধ হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। সাবেক এই জেনারেলের মতে, অন্য আরব দেশগুলো এখনই এমন কঠোর পদক্ষেপ না নিলেও, আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে তেহরান একটি 'যুদ্ধ ঘোষণার শামিল' হিসেবেও গণ্য করতে পারে।

আন্তর্জাতিক ভূগোল অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে রাশিয়া যাচ্ছে বাংলাদ…
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
না ফেরার দেশে বুটেক্স অধ্যাপক মশিউর
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শরীর ক্লান্ত, অথচ রাতে ঘুম আসে না? ঘুম ফেরাতে কার্যকর ৭ উপায়
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
আগামীকাল ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতকোত্তরের সুযোগ ফ্রান্সে, থাকছে আবাসন-মাসিক …
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬
৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলির আদেশ না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা শ…
  • ১৭ অক্টোবর ২০২৬