বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিট্টু © সংগৃহীত
ভারতের পাঞ্জাবের বিজেপি নেতা রবনীত সিং বিট্টু কেন্দ্রীয় রেল ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে জুন মাসেই রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়েছিল। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবর এনডিটিভির
সূত্র জানায়, আম আদমি পার্টির (এএপি) নিয়ন্ত্রণাধীন পাঞ্জাবে বিজেপির অবস্থান শক্তিশালী করতে বিট্টু দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। আগামী নির্বাচনে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের জনগণের, বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের মানুষের সেবা করতে পেরে আমি গর্বিত। সেবা, জাতীয়তাবাদ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে উন্নত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আদর্শে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ। নতুন উদ্দীপনায় আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’
রবনীত সিং বিট্টু পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বেয়ান্ত সিংয়ের নাতি। তিনি ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ওই বছর লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও জয় পাননি। পরে কংগ্রেস নেতা কে. সি. ভেনুগোপালের শূন্য হওয়া আসনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য রাজস্থান থেকে তাকে রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত করা হয়।
সম্প্রতি শিখদের সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে নির্মিত দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত সতলুজ চলচ্চিত্রের কড়া সমালোচনা করেন বিট্টু। তিনি অভিযোগ করেন, সিনেমাটি উত্তেজনা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে যখন অধিকাংশ শিখ নেতা সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন বিট্টুর প্রকাশ্য সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঞ্জাবে বিজেপির কৌশল নির্ধারণে বিট্টু চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটার গোষ্ঠী হিন্দু, শিখ, দলিত ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) কে কেন্দ্র করে প্রচার চালাতে পারেন।
প্রসঙ্গত, জনসংখ্যার হিসেবে পাঞ্জাবে শিখরা সবচেয়ে বড় ভোটার গোষ্ঠী, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশ। হিন্দুরা প্রায় ৩৯ শতাংশ, যা এক কোটিরও বেশি মানুষ নিয়ে রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায়। এছাড়া দলিত জনগোষ্ঠী প্রায় ৩২ শতাংশ এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা আনুমানিক ১৬ শতাংশ, যা নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।