জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। © সংগৃহীত ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিনকে জড়িয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও সম্মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর ও সম্মানহানিকরভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা অভিযোগ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা, দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ তথ্য যাচাই অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রচারণায় এসব নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে একজন সম্মানিত শিক্ষক ও গবেষকের পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও গবেষক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো সুস্থ একাডেমিক পরিবেশের পরিপন্থী।
এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রকাশিত তথ্যের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা এবং প্রচারের উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “আমার ছবি ব্যবহার করে প্রকাশিত এ ধরনের নিউজকে আমি মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন ও ফেক নিউজ হিসেবে বিবেচনা করি। নিশ্চয়ই এর পেছনে কেউ না কেউ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে এসব করছে। বিশেষ করে, আমার অনুমতি ছাড়া আমার ছবি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিনের সম্মান, মর্যাদা ও পেশাগত ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শারমীন আক্তার শিমুর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাঁর গবেষণাপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও পোস্টডক অভিজ্ঞতা দেখানোর ক্ষেত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন তাঁর পদোন্নতির জন্য তদবির করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের বিবৃতিতে এসব অভিযোগের সঙ্গে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে।