ঘুষ গ্রহণের দায়ে সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিল চীন 

০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ PM
ঘুষ গ্রহণের দায়ে দণ্ডিত ইয়াং ইউলিন

ঘুষ গ্রহণের দায়ে দণ্ডিত ইয়াং ইউলিন © সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ২২ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি (২.২ বিলিয়ন ইউয়ান) ঘুষ গ্রহণের দায়ে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় এক শহরের সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। চীনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। খবর বিবিসির

নাইনজিং শহরে ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা ৬৯ বছর বয়সি ইয়াং ইউলিনকে ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চীনের চ্যাংশু শহরের একটি আদালত গত সোমবার এই রায় ঘোষণা করে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াং ইউলিন তার দীর্ঘ কর্মজীবনে নানজিংয়ের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন খাতে কাজ করার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য পক্ষকে ইঞ্জিনিয়ারিং চুক্তি পাইয়ে দেওয়া, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নে সহায়তা করার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেন। আদালত জানিয়েছে, ইয়াং ইউলিনের অপরাধগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির এবং এর ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের নজিরবিহীন ক্ষতি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশব্যাপী চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াং-এর বিরুদ্ধে এই তদন্ত চালানো হয়। শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন, যা দেশটির সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে আঘাত হেনেছে। 

চীনে সাধারণত আর্থিক অপরাধ বা হোয়াইট কলার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। তবে ঘুষ বা দুর্নীতির পরিমাণ যদি ১ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়ে যায়, তবে আদালত মাঝেমধ্যে এই কঠোর শাস্তি প্রদান করে। এর আগে ২০২১ সালে ১.৮ বিলিয়ন ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার দায়ে সাবেক অর্থপ্রধান লাই জিয়াওমিন এবং ২০২৪ সালে ৩ বিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি আত্মসাৎ ও ঘুষের দায়ে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে আদালত সাধারণত কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড (যা পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়) দিয়ে থাকে। এমনকি অপরাধী যদি অন্য কোনো অপরাধীর তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করে, তবে শাস্তি কিছুটা কমানো হয়। 

চ্যাংশু আদালত জানিয়েছে, ইয়াং কর্তৃপক্ষকে কিছু তথ্য দিয়ে সহায়তা করলেও তাঁর অপরাধের মাত্রা এতটাই "ভয়াবহ" ছিল যে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করার সুযোগ ছিল না। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়াং ইউলিন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বিবৃতিতে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।

‘গাঁজা-বাবা কি তোর বাপের টাকায় খাই’— বলেই ছাত্রদল সভাপতিকে…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
চমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকের সমকামিতার তথ্য প্রকাশ্যে, বয়কটের …
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
নারী সহকর্মীর ঘর থেকে বস্ত্রহীন অবস্থায় যুবদল সভাপতি আটক, ভ…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন—প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ভিডিও কলে পলিটিক্স না করে অফলাইনে আসেন—নুরকে কেন এ কথা বললে…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
চাকরির কথা বলে তরুণীদের আটকে রেখে পর্নোগ্রাফি তৈরি, স্বামী-…
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬