চীনের টুরিস্ট ভিসার আদ্যোপান্ত

২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ PM
চীনের টুরিস্ট ভিসা পেতে কী করতে হবে জেনে নিন

চীনের টুরিস্ট ভিসা পেতে কী করতে হবে জেনে নিন © সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার দেশ চীন। হাজার বছরের ইতিহাস, বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক নিদর্শন, আধুনিক নগরায়ণ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অনন্য সমন্বয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক চীন ভ্রমণ করেন। বাংলাদেশ থেকেও দিন দিন বাড়ছে চীনে ভ্রমণকারীর সংখ্যা।

আপনি চাইলে নিজেই অথবা কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তায় চীনের টুরিস্ট (L) ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে চীনের ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ ও আধুনিক হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি। আজকের আয়োজনে থাকছে চীনের টুরিস্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রসেসিং সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ।

আবেদন প্রক্রিয়া

চীনের টুরিস্ট ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে ভিসা আবেদন (COVA) সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য পাসপোর্ট অনুযায়ী নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনটি প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে চীনা ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (Chinese Visa Application Service Center-CVASC) জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রদান করতে হতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—

১. ভিসা আবেদন ফরম

অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের তথ্য অবশ্যই পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল থাকতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।

২. বৈধ পাসপোর্ট

*পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে;

*অন্তত দুটি ফাঁকা ভিসা পৃষ্ঠা থাকতে হবে;

*প্রয়োজন হলে আগের পাসপোর্টও জমা দিতে হতে পারে;

৩. ছবি

*সাম্প্রতিক সময়ে তোলা রঙিন ছবি;

*সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড;

*অনলাইন আবেদনের সময় ডিজিটাল ছবি আপলোড করতে হয়;

*প্রয়োজনে একই ছবির প্রিন্টেড কপি জমা দিতে হতে পারে;

৪. পেশার প্রমাণপত্র

চাকরিজীবী

*অফিসের প্যাডে ইস্যুকৃত NOC;

*ভিজিটিং কার্ড;

ব্যবসায়ী

*ট্রেড লাইসেন্স;

*ভিজিটিং কার্ড;

*প্রয়োজন হলে কোম্পানির অন্যান্য নিবন্ধনপত্র;

শিক্ষার্থী

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের NOC অথবা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড।

চিকিৎসক

BMDC নিবন্ধন সনদ অথবা হাসপাতালের NOC।

আইনজীবী

বার কাউন্সিল সনদ অথবা চেম্বারের NOC;

বাংলা ভাষায় ইস্যুকৃত কিছু কাগজপত্র প্রয়োজনে ইংরেজি অনুবাদ ও নোটারি করতে হতে পারে।

৫. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ

*গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট;

*ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট;

চীনের দূতাবাস নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম ব্যাংক ব্যালেন্স নির্ধারণ করেনি। তবে ভ্রমণের ব্যয় বহন করার মতো পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে।

৬. হোটেল বুকিং

চীনে অবস্থানের জন্য হোটেল বুকিংয়ের কপি জমা দিতে হবে। সাধারণত বুকিং কপি থাকলেই আবেদন করা যায়; ভিসা পাওয়ার আগে হোটেল সম্পূর্ণ কনফার্ম করা বাধ্যতামূলক নয়।

৭. রিটার্ন এয়ার টিকিট বুকিং

ঢাকা-চীন-ঢাকা রিটার্ন এয়ার টিকিটের বুকিং কপি জমা দিতে হবে। ভিসা অনুমোদনের পর টিকিট নিশ্চিত করা যেতে পারে।

৮. জাতীয় পরিচয়পত্র

প্রয়োজন হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হতে পারে।

৯. ভ্রমণ পরিকল্পনা (Travel Itinerary)

চীনে কোথায় কোথায় ভ্রমণ করবেন তার সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা জমা দিতে হতে পারে।

১০. ইনভাইটেশন লেটার (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

আপনি যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার আমন্ত্রণে চীন ভ্রমণ করেন, তাহলে তাদের পাঠানো Invitation Letter জমা দিতে হবে।
শুধু সাধারণ টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে সবার জন্য ইনভাইটেশন লেটার বাধ্যতামূলক নয়।

১১. বায়োমেট্রিক

বর্তমানে অধিকাংশ আবেদনকারীকেই আবেদন জমা দেওয়ার সময় বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দিতে হয়। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

১২. ভিসা ফি

চীনের ভিসার ফি ভিসার ধরন, এন্ট্রির সংখ্যা (Single/Double/Multiple Entry) এবং প্রসেসিং সময়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। এছাড়া ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সার্ভিস চার্জও যুক্ত হয়। সর্বশেষ ফি আবেদন করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

১৩. ভিসা প্রসেসিং সময়

সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার পর ৫ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে অতিরিক্ত কাগজপত্র যাচাই, সাক্ষাৎকার অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে সময় আরও বেশি লাগতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সুবিধাও রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হয়।

১৪. আবেদনকারীদের জন্য কিছু পরামর্শ

*আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেবেন না;

*জাল বা ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন;

*ব্যাংক স্টেটমেন্টে স্বাভাবিক লেনদেন বজায় রাখুন;

*ভিসা অনুমোদনের আগে হোটেল ও বিমান টিকিট সম্পূর্ণভাবে কনফার্ম না করাই ভালো;

প্রয়োজনে দূতাবাস বা ভিসা আবেদন কেন্দ্র অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে।

ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল দিনমজুরের, আহত ২
  • ২৯ জুন ২০২৬
নেইমারকে কটাক্ষ করা কে এই জাপানি স্ট্রাইকার
  • ২৯ জুন ২০২৬
১৮ দিন বয়সি নবজাতকসহ যেভাবে ধ্বংসস্তূপ বেঁচে ফিরলেন মা
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দায়িত্বে পেনাল্টি দিয়ে নির্বাসিত সেই …
  • ২৯ জুন ২০২৬
কুবির ৮৩ কোটি টাকার বাজেট, যেকারণে গবেষণা খাতে নেই বরাদ্দ
  • ২৯ জুন ২০২৬
বুলবুলের আইসিসিতে চিঠি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ফারুক আহমেদ
  • ২৯ জুন ২০২৬