কাতারের রাজপরিবার থেকে উপহারপ্রাপ্ত ট্রাম্পের নতুন বিলাসবহুল বিমান © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮আই উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নর্থ ডাকোটা সফরে তিনি এ বিলাসবহুল বিমানটি ব্যবহার করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত প্রায় ৩৫ বছর পুরোনো প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান বদলের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প কাতারের রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই বোয়িং ৭৪৭-৮আই (ভিসি-২৫বি ব্রিজ) বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেয় কাতার।
নতুন উড়োজাহাজে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এমন একটি বিমান তৈরি করতে পারত। তবে এর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো, যা বাস্তবসম্মত হতো না। তার ভাষায়, কাতার বিমানটিতে সর্বোচ্চ মানের প্রযুক্তি ও বিলাসবহুল সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
কী আছে নতুন উড়োজাহাজে?
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের বাহ্যিক নকশায়ও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানের সাদা ও হালকা নীল রঙের পরিবর্তে নতুন বিমানটির নিচের অংশ গাঢ় নীল, মাঝখানে লাল রঙের সরু রেখা এবং ওপরের অংশ নীল রঙে সাজানো হয়েছে।
মূলত কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহারের জন্য তৈরি হওয়ায় বিমানটিতে আগে থেকেই ছিল বিলাসবহুল স্যুট, ব্যক্তিগত বৈঠককক্ষ, উন্নত বিশ্রামাগার এবং ভিআইপি মানের যাত্রীসুবিধা। যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর কেবিনের বিলাসবহুল কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ঝুঁকি দূর করেন।
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা চাহিদা অনুযায়ী বিমানটিতে যুক্ত করা হয়েছে বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। আকাশে উড়ন্ত অবস্থাতেও প্রেসিডেন্ট যেন নির্বিঘ্নে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য উন্নত এনক্রিপটেড যোগাযোগ প্রযুক্তির পাশাপাশি ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটও সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিতর্কও কম নয়
কাতারের কাছ থেকে এত ব্যয়বহুল বিমান উপহার গ্রহণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এটিকে নৈতিকতা, স্বার্থের সংঘাত এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন : খামেনির শেষ বিদায়ে পাশে ছিল ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট্ট কফিন
তবে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ ধরনের সমালোচনা সম্পূর্ণ বোকামি। তার দাবি, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষ হলে বিমানটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার না করে তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।
কেন এই বিমান ব্যবহার?
বোয়িংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্থায়ী প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান (ভিসি-২৫বি) নির্মাণ প্রকল্প এখনো শেষ হয়নি। বিভিন্ন কারিগরি জটিলতায় প্রকল্পটি বিলম্বিত হওয়ায় অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সরকারি সফরের জন্য এ ব্রিজ এয়ারক্রাফট ব্যবহার করা হবে। তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ।