ভূমিকম্পে একাধিক ভবন ধস © সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পে একাধিক ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা জানানো না হলেও ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যদিও প্রাথমিকভাবে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর মাত্রা ৭ দশমিক ২ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রথম ভূমিকম্পের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
পরপর এই দুই শক্তিশালী কম্পনে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, এ ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের ঝুঁকি রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শক্তিশালী পরাঘাতও অনুভূত হতে পারে।
বারিনাস রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি উইলমার আজুয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কারাকাসের সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ধসে পড়া ধ্বংসাবশেষের চিত্র তুলে ধরেছেন। ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে দেখা যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে কারাকাসের এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় মুহূর্তের মধ্যে একটি ভবনের সিঁড়ি খুলে পড়ে যায় এবং দেয়ালের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি বলেন, কম্পনের সময় ছাদ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র খসে পড়ছিল এবং পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
আরও পড়ুন: বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতায় কাটছাঁটের প্রস্তাব সচিব কমিটিতে, বাড়ছে মূল বেতন
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর রাজধানীর বাসিন্দারা দ্রুত ভবন ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তার ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে।
এএফপির এক আলোকচিত্রীর তোলা ছবিতে কারাকাসের একটি ভবনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটি একটি ব্যাংকের শাখা ছিল।
চাকাও পৌরসভার মেয়র গুস্তাভো দুকে সায়েজ জানিয়েছেন, কারাকাস মহানগর এলাকার অংশ হিসেবে তার পৌরসভায় অন্তত দুটি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো। তিনি বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেশ কয়েকটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যাতে ভূমিকম্প-পরবর্তী কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কিছু স্থাপনা ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা গ্যাস থেকে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটুক, তা চাই না।’
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে প্রাণহানি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে এবং মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি