যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কিয়ার স্টারমার © সংগৃহীত
লেবার পার্টির এমপিদের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। দলের নেতৃত্ব তথা দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের ব্যাটন অ্যান্ডি বার্নহ্যামের হাতে ছেড়ে দিতে আগামী সোমবার (২২ জুন) তিনি পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের
আজ রবিবার (২১ জুন) সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাজ্যের বিজনেস সেক্রেটারি (বাণিজ্যমন্ত্রী) পিটার কাইল প্রধানমন্ত্রীর নির্দিষ্ট এই পদত্যাগ পরিকল্পনার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন এবং দেশের জন্য যা সবচেয়ে মঙ্গলজনক, তিনি সেটাই করবেন।
বিবিসি-র ‘সানডে উইথ লরা কুয়েনসবার্গ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিটার কাইল বলেন, ‘আমি এখানে এসে এই বিভ্রান্তি ছড়াতে চাই না যে কোনো প্রক্রিয়া সচল নেই, বা এমন কোনো শক্তি কাজ করছে না যা নেতার আসনে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করছে—পরিস্থিতি আসলে একেবারেই তাই (স্টারমার চ্যালেঞ্জের মুখে)।’
মেকারফিল্ডের উপ-নির্বাচনে জিতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওয়েস্টমিনস্টারে (সংসদে) ফিরে আসার আগে পর্যন্ত কিয়ার স্টারমার এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সপ্তাহখানেক ধরে দাবি করে আসছিলেন যে, বার্নহ্যাম বা অন্য যে কারোর কাছ থেকে আসা নেতৃত্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করবেন। আজ রবিবারও ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে সেই অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি করা হয় এবং গত শুক্রবার বার্নহ্যামের উপ-নির্বাচনে জয়ের পর সাংবাদিকদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র টেনে বলা হয়, স্টারমার তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী কাইল জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন ঠিক কী ঘটতে চলেছে তা তার জানা না থাকলেও কিয়ার স্টারমার দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছেন।
গত শুক্রবার স্টারমারের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে কাইল বলেন, ‘তিনি (স্টারমার) দেশের স্বার্থের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। ওই কথোপকথনে তিনি বারবার আমার কাছে জানতে চেয়েছেন এবং পরামর্শ চেয়েছেন যে এই ভিন্ন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ আসলে এই মুহূর্তে কী চায়।’ তবে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি নিজে কী পরামর্শ দিয়েছেন, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি কাইল। লেবার পার্টির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সুসংহত দল, কিন্তু আমরা এখন একটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। আমাদের এমন একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে যা দেশকে সবার আগে রাখবে। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’
উল্লেখ্য, পিটার কাইল সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্ট্রিটিং গত মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের শীর্ষ পদে বসানোর (করোনেশন) যে গুঞ্জন চলছে, তার পরিবর্তে কাইল একটি পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচন বা প্রতিযোগিতা চান কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেখানেই সম্ভব একটি প্রতিযোগিতা হওয়া ভালো, তবে একই সাথে দলের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার দিকেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।’
লেবার পার্টিকে কনজারভেটিভদের অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টোরিদের থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো পরিবর্তন (তা ঘটুক বা না ঘটুক) যেন একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হয়, যাতে সরকারের মনোযোগ যেন জনগণের প্রয়োজনীয়তা থেকে বিচ্যুত না হয়।’
তবে যারা ভাবছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এসেই জাদুকরী উপায়ে লেবার পার্টির ভাগ্য বদলে দেবেন, তাদের প্রতি একটি পরোক্ষ সতর্কবার্তা দিয়ে কাইল বলেন, ‘টোরিদের থেকে লেবার পার্টির আরও একটি বিষয় শেখা উচিত—কনজারভেটিভরা যখনই তাদের দলে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখনই তারা ভেবেছে শীর্ষের মানুষটিকে বদলে দিলেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এটি যে সম্পূর্ণ ভুল এবং বাস্তবে এমনটা ঘটে না, তা তো সবার সামনেই প্রমাণিত।’