ইরান © সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ‘স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ’ নিলে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের চার দেশ জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্য।
চার দেশের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ তারা জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত।
বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবাধভাবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে শত্রুতা ও সামরিক অভিযান স্থগিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
সচিবালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে সমঝোতা হয়েছে তার ভিত্তিতে আজ রাত থেকেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।’
এতে আরও বলা হয়, সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার)। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা তখনই শুরু হবে, যখন অপর পক্ষ সমঝোতা স্মারকে বর্ণিত দায়িত্বগুলো বাস্তবায়ন করবে। ইরান এ প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য পাকিস্তান সরকার ও কাতার সরকারের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক কিমিট সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই নাজুক সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। তার মতে, অন্তত চারটি পক্ষ এই চুক্তির জন্য সম্ভাব্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ, ইরান এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিমিট বলেন, ‘এখানে অনেক সম্ভাব্য বাধা রয়েছে।’ তার মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্বার্থ মিল থাকলেও উভয় দেশের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। ফলে ইসরায়েল নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহ এখনো যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি, তাই তারাও সমঝোতা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ইরানও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে অনাগ্রহী, যা ভবিষ্যতে নতুন জটিলতার কারণ হতে পারে।