হুমায়ুন কবির © টিডিসি ফটো
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন হুমায়ুন কবির। বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় আসা এই রাজনীতিকের জয়কে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, রেজিনগর বিধানসভা আসনে ১৫ রাউন্ড গণনা শেষে হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। এ আসনে তিনি বিজেপির প্রার্থী বাপন ঘোষকে ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন।
অপরদিকে নওদা আসনেও তিনি জয় পেয়েছেন। ২১ রাউন্ড গণনার পর সেখানে তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৮৬ হাজার ৪৬৩টি। এ আসনে বিজেপির প্রার্থী রানা মণ্ডলকে ২৭ হাজার ৯৪৩ ভোটে হারিয়েছেন তিনি।
বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আগেই আলোচনায় এসেছিলেন হুমায়ুন কবির। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটির প্রধান মমতা ব্যানার্জি তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেন।
বহিষ্কারের পরও গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর নিজেই ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং সেই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।
নির্বাচনের আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনে নিজের প্রভাব থাকার দাবি করে আসছিলেন হুমায়ুন কবির। ভোট গণনার প্রতিটি ধাপে তার জয়ের সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাই বাস্তবে রূপ নেয়।
ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মানুষ আমাদের পছন্দ করেছেন, আমাদের অধিকার দিয়েছেন। প্রচারেই আমি আভাস পেয়েছিলাম। অনেক বিরোধিতা, অপপ্রচার সহ্য করেছি। তৃণমূল কংগ্রেসের হুমকি উপেক্ষা করেছি। নওদা ও রেজিনগর- দুটি আসনেই আমি জিতেছি।’
তবে তার দলের অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য কোনো ফল করতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লড়াই এখনো জারি। দেখা যাক না কী হয়।’
এদিকে রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলটি ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি আসনে জয়লাভ করেছে।
অন্যদিকে টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস শতকও পেরোতে পারেনি। ফলে প্রায় ১৫ বছর পর রাজ্যের ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন এই দলকে, আর রাজ্যে নতুন করে ক্ষমতায় আসছে বিজেপির নেতৃত্ব।