প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু বেকারত্বের গ্লানি আর ঋণের বোঝা সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বিষণ্ণতার কাছে হার মানলেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ২৬ বছর বয়সী তরুণ ইরাগানাবোয়িনা চান্দু। শিকাগোয় নিজের বাসায় এই মেধাবী তরুণের আত্মহত্যার ঘটনায় বিদেশের মাটিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সংকটের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শুক্রবার (১ মে) এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলার বাসিন্দা চান্দু সম্প্রতি শিকাগোর ডিপল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘদিন ধরে হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছিলেন তিনি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না হওয়ায় এবং পরিবারের আর্থিক সংকট তীব্রতর হওয়ায় তিনি চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চান্দুর বাবা পেশায় একজন নিরাপত্তারক্ষী। ছেলের পড়াশোনার জন্য বড় অংকের ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। বাবার এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর পরিবারের ঋণের বোঝা চান্দুকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
চান্দুর মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে নিতে এবং তার দরিদ্র পরিবারকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীরা। মরদেহ পাঠাতে প্রয়োজনীয় ২৫ হাজার ডলারসহ মোট ১ লাখ ২০ হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। মাত্র দুই দিনেই সেই তহবিলে ৭৬ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছে। সংগৃহীত বাড়তি অর্থ দিয়ে চান্দুর পরিবারের ঋণ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এদিকে, বিষয়টি অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশের নজরে আসার পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতের কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। বর্তমানে শিকাগো পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে। চর্তুদিকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এই মেধাবী তরুণের অকাল মৃত্যুতে।