ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আফ্রিকা

০১ মে ২০২৬, ০৪:১৩ PM
সারের অভাবে খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আফ্রিকা

সারের অভাবে খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আফ্রিকা © সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে, বিশেষ করে আফ্রিকায় চরম খাদ্য সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বের বৃহত্তম সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার। শুক্রবার (১লা মে) এ সমস্যা সমাধানে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর গার্ডিয়ানের 

হোলসেথার জানান, ‘যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সারের দাম ও সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে একটি অসম প্রতিযোগিতা বা গ্লোবাল অকশন শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে ধনী দেশগুলো সার সংগ্রহ করতে পারলেও আফ্রিকার মতো দরিদ্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় সার কিনতে ব্যর্থ হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে।’

তিনি আরও জানান, ‘গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সারের প্রধান উপাদান ইউরিয়ার দাম প্রায় ৬০% থেকে ৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের ৩৫ শতাংশ ইউরিয়া আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা এখন সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এছাড়া নাইট্রোজেনজাত সারের মূল কাঁচামাল অ্যামোনিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিষাক্ত হওয়ায় কাতারসহ বেশ কিছু দেশ এর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন উৎপাদন কমছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মতো দেশগুলো সারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের কৃষকদের জন্য বড় অংকের আর্থিক অনুদান ও ভর্তুকি ঘোষণা করলেও আফ্রিকার কৃষকদের জন্য এমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। 

আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ চেইনের অনেক গভীরে পৌঁছে গেছে। সংস্থাটির সাপ্লাই চেইন রিসার্চ প্রধান ক্রিস রজার্স জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সারের ওপর বিধিনিষেধের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি ও পরোক্ষ উভয় সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সাব-সাহারা অঞ্চলের ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মতো দেশগুলো নাইট্রোজেনজাত সারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশের বিশাল কৃষিজমি ও খাদ্য রপ্তানির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তারা বর্তমানে বিপুল পরিমাণ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। হোলসেথার সতর্ক করে বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে তাদের কৃষকদের জ্বালানি ও সারের বাড়তি খরচ সামলাতে জনপ্রতি ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত আর্থিক অনুদান ও ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আফ্রিকার কৃষকদের জন্য এমন কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ইউরোপের কৃষকরা উন্নত মাটি ও আধুনিক পদ্ধতির কারণে সার কম ব্যবহার করেও মোটামুটি ফলন ধরে রাখতে পারলেও আফ্রিকার কৃষকদের ক্ষেত্রে সার না পাওয়া মানেই হচ্ছে নিশ্চিত ফলন বিপর্যয়।’ 

কৃষিকাজকে একটি ব্যাবসায়িক গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সময় থাকতে পদক্ষেপ না নিলে এই যুদ্ধের চড়া মূল্য দিতে হবে বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষগুলোকেই।’

তারকা হল্যান্ডকে নিয়ে শক্তিশালী দল ঘোষণা নরওয়ের
  • ২২ মে ২০২৬
কিশোরীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার ৩, ধরা-ছোঁয়ার বা…
  • ২২ মে ২০২৬
এজলাসে এক আসামিকে গাঁজা-ইয়াবা সাপ্লাই আরেকজনের, দুজনকেই জেল…
  • ২২ মে ২০২৬
স্কুলে যাওয়ার টাকা না পেয়ে বাবার ওপর অভিমান, অষ্টম শ্রেণির …
  • ২২ মে ২০২৬
পরিচয় মিলেছে নিহতের, ১৭ বছর আগে অভিমানে ছেড়েছিলেন বাড়ি
  • ২১ মে ২০২৬
শিশু ধর্ষণে অভিযুক্তকে ‘আটক’ করতে পুলিশের গুলি, ২ সাংবাদিক …
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081