উত্তর কোরিয়া তাদের ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’র কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মিসাইল পরীক্ষা চালিয়েছে © রয়টার্স
উত্তর কোরিয়া তাদের ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’র কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল এবং অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের (জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) নতুন পরীক্ষা চালিয়েছে। গত রবিবার এ পরীক্ষা চালানো হয় বলে মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং নৌবাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এ পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। যুদ্ধজাহাজটির সমন্বিত অস্ত্র কমান্ড সিস্টেম যাচাই, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পদ্ধতিতে ক্রুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উন্নত নেভিগেশন সিস্টেমের নির্ভুলতা ও অ্যান্টি-জ্যামিং পারফরম্যান্স পরীক্ষার জন্য দুটি কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল এবং তিনটি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়।
মিসাইলগুলো দেশের পশ্চিম উপকূলে প্রায় ৭ হাজার ৮৬৯ থেকে ৭ হাজার ৯২০ সেকেন্ড এবং অ্যান্টি-শিপ মিসাইলগুলো প্রায় ১ হাজার ৯৬০ থেকে ১ হাজার ৯৭৩ সেকেন্ড ধরে উড়ে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উনকে নির্মাণাধীন আরও দুটি ডেস্ট্রয়ারের অস্ত্র ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এটি মূলত ‘চোয়ে হিয়ন’ শ্রেণির তৃতীয় এবং চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ তৈরির প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
কিম বলেন, দেশের পারমাণবিক যুদ্ধের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা একটি শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল স্ট্রাইক সক্ষমতা এবং দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি বৃদ্ধির আহবান জানান।
আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসছে লেবানন
পিয়ংইয়ং ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম ৫ হাজার টন ওজনের চোয়ে হিয়ন-ক্লাস যুদ্ধজাহাজে অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এরপর জুনে ২০২৬ সালে আরও দুটি ডেস্ট্রয়ার তৈরি এবং প্রতি বছর একই বা তার চেয়ে উন্নত শ্রেণির দুটি জাহাজ কমিশন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন কিম।
কিউংনাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, চতুর্থ ডেস্ট্রয়ারের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে আগের ঘোষণার বাইরেও এ জাহাজ তৈরির বিষয়টি প্রথমবারের মতো দাপ্তরিকভাবে স্বীকার করা হলো।
লিম বলেন, ‘তৃতীয় এবং চতুর্থ ডেস্ট্রয়ারের কথা উল্লেখ নির্দেশ করে যে, উত্তর কোরিয়া বিচ্ছিন্ন কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিবর্তে একটি ডেস্ট্রয়ার ফ্লোটিলা বা নৌবহর গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে সাধারণত পরবর্তী উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
অধ্যাপক লিমের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে এক অপরিবর্তনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অস্ত্র উন্নত করার গতি আরও বেড়েছে।