বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো © সংগৃহীত
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিতে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। বুধবার শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক সফরে বেলারুশ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একটি ‘মিত্রতা চুক্তি’ এবং প্রায় ১০টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় দেশের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বেলারুশীয় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বেল্টা জানিয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ‘পারস্পরিক স্বার্থের মূল ক্ষেত্রগুলো ও বাস্তবায়নযোগ্য সবচেয়ে প্রমিজিং প্রজেক্টগুলো আইডেন্টিফায়েড করা’। দুই দিনের এই সফরে মিনস্ক ও পিয়ংইয়ং তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করতে কাজ করছে।
নিজের সফর প্রসঙ্গে লুকাশেঙ্কো বেল্টাকে বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজন আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।’ বৈশ্বিক রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের একে-অন্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ বেলারুশ নেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সব স্তরেই উত্তর কোরিয়ার সাথে সম্পর্ক গভীর করতে আগ্রহী।
এই সফরের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে কিম জং উন ও লুকাশেঙ্কোর সাক্ষাতের সময়। পরবর্তীতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এক চিঠিতে ‘মিত্রতা ও সহযোগিতার ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার’ প্রত্যয় ব্যক্ত করে লুকাশেঙ্কোকে আমন্ত্রণ জানান।
বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বেলারুশ—উভয় দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে হাজার হাজার সেনা ও বিপুল অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে, যার বিনিময়ে তারা পাচ্ছে রুশ সামরিক প্রযুক্তি ও খাদ্য সহায়তা। এর আগে ২০২৪ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরের সময় দেশ দুটির মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছিল।
মানবাধিকার ইস্যুতেও দেশ দুটি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে। উত্তর কোরিয়ার কঠোর দমননীতি এবং বেলারুশে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে বেলারুশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের এবং মিনস্ককে শান্তি আলোচনায় যুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরই মধ্যে মার্কিন প্রচেষ্টায় বেলারুশ থেকে বেশ কিছু বন্দি মুক্তি পেলেও দেশটিতে এখনও অনেক রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন।