উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছরই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ইউনেস্কো প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী বিদেশের মাটিতেই কাটাচ্ছেন মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। রমজান মাসব্যাপী রোজা রেখে এবারেও ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন পরিবারবর্গ ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া। রাশিয়ায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থীর ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন— আমান উল্যাহ আলভী।
গোলাম সারোয়ার অভি বর্তমানে রাশিয়ার মস্কো শহরে অবস্থান করছেন। তিনি মস্কো এভিয়েশন ইনস্টিটিউটে এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ব্যাচেলর করছেন। অভি বলেন, বিদেশে পরিবার ছাড়া প্রথম ঈদ কাটানো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সব অনুভূতি যেন শূন্য হয়ে যায়। একাকীত্বের অনুভূতি চোখের সামনে ফুটে উঠে।
দেশে থাকলে তিনি ঈদ উদযাপন করতেন পরিবারের সঙ্গে। চাঁদ রাতের আড্ডা, সকালে মা-বাবার ডাক, ঈদের নামাজ, দাদা-দাদীর কবর জিয়ারত, সালামি বিনিময় ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল তার রুটিন। তিনি বলেন, বিদেশে রমজান মাসের পরিবেশও তার কাছে ভিন্ন মনে হয়েছে। মস্কো শহরে মুসলিম সংখ্যা খুব কম এবং মাত্র কয়েকটি মসজিদে ঈদের আয়োজন হয়। তাছাড়া ক্লাস ও কাজের ব্যস্ততার কারণে রমজানের আমেজ পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব হয় না।
অভি বলেন, ইফতার বা সেহরিতে বাংলাদেশি খাবারের ব্যবস্থা সীমিত। রাশিয়ায় বাংলাদেশী খাবার পাওয়া কঠিন এবং ভ্যাটের কারণে দামও বেশি। তাই ইফতার ও সেহরি সাধারণত ওই দেশের বিভিন্ন স্থানীয় খাবার দিয়ে সম্পন্ন হয়।
মসজিদে ঈদের নামাজ হয় এবং মোটামুটি সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নামাজে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেন। ঈদের দিনে পরিবারের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি মিস করেন তিনি, বিশেষ করে মায়ের হাতের সেমাই এবং সালামি বিনিময়ের মুহূর্ত। তিনি বলেন, বিদেশে থাকলেও আমি পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখি। তবে প্রথমবারের মতো পরিবারবর্গ ছাড়া ঈদ উদযাপন করা মানসিকভাবে কিছুটা কঠিন।
রাশিয়া অধ্যয়নরত এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মনে করেন, বাংলাদেশের ঈদের সাথে বিদেশে ঈদের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো ঈদের বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত আমেজ। বাংলাদেশে শহর, গ্রাম ও শপিং মল সব জায়গায় ঈদের এক আলাদা উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে, যা বিদেশে অনুপস্থিত। বিদেশে থাকলেও বন্ধুবান্ধব মিলে ছোট ছোট আড্ডা ও ঘুরাঘুরি ঈদের আনন্দের কিছুটা প্রকাশ ঘটায়।