ধেয়ে আসছে ‘সুপার এল নিনো’, ভাঙতে পারে ১৪০ বছরের রেকর্ড

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৪ AM
এআই দিয়ে তৈরি ছবি

এআই দিয়ে তৈরি ছবি © সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এটি যদি ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নেয়, তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গত ১৪০ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। খবর গার্ডিয়ান। 

এল নিনো কী এবং কীভাবে কাজ করে

সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এল নিনো হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যখন মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর বিপরীত অবস্থা ‘লা নিনা’, যেখানে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে। আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলা হয় ‘নিউট্রাল’। সাধারণত উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালে এই চক্র শুরু হয় এবং প্রতি তিন থেকে সাত বছর পরপর এর পরিবর্তন ঘটে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাত্র ০.৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়া বা কমার ওপরই নির্ভর করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা বা বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব

এল নিনো বায়ুমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে বায়ুপ্রবাহের ধরণ বদলে যায় এবং পৃথিবীর এক প্রান্তে শক্তিশালী ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে অন্য প্রান্তে তীব্র খরা দেখা দেয়। ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ খরা এবং পুয়ের্তো রিকোয় পানির সংকট তৈরি হয়েছিল।

সাধারণত এই আবহাওয়া চক্রের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকা এবং আমাজনের রেইনফরেস্ট এলাকায় খরা ও তাপপ্রবাহ বাড়ে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ায় অতিবৃষ্টির প্রবণতা দেখা যায়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, খরাপ্রবণ অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদে পানির ঘাটতি দূর করতে পারে না, বরং হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কেন বলা হচ্ছে ‘সুপার এল নিনো’

যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যায়, তখন সেটিকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর এ ধরনের ঘটনা খুব অল্প কয়েকবারই ঘটেছে। পল রাউন্ডি জানিয়েছেন, এবার গত ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে অ্যান্ডি হ্যাজেলটন বলেছেন, সব ধরনের পূর্বাভাসই এখন একটি শক্তিশালী এল নিনোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।

পূর্বাভাস কতটা নির্ভরযোগ্য

বর্তমানে আবহাওয়া ‘লা নিনা’ অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থার দিকে যাচ্ছে। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, বসন্তকালের পূর্বাভাস অনেক সময় পুরোপুরি নির্ভুল হয় না, কারণ এ সময় প্রকৃতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। এই অনিশ্চয়তাকে তারা ‘বসন্তকালীন অনিশ্চয়তা’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রস্তুতির আহ্বান বিশ্বজুড়ে

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-এর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী, যা ২০২৪ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বলেন, এল নিনোর সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া গেলে কৃষি, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা করে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা যায়। তাই তিনি বিশ্বজুড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ: আবহাওয়া
পিরোজপুরে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল যুক্তরাষ্ট্র
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
কুয়েটে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা, ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
লেবাননে ইসরায়েলি সেনা নিহত, নিশ্চিত করল আইডিএফ
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
মন্ত্রীর পাশের চেয়ারে বসা নিয়ে হাতাহাতি, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই সেলস অফিসার নেবে মিনিস্টার হাই-টেক, পদ ২০, আ…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬