নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় © সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণের সময় বিবিধ খরচের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। অভিযুক্ত নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুজ খান সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার ভাই।
এদিকে বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) বই বিতরণের জন্য অর্থ আদায়ের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক ও বাউফল ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম গাজী।
বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক জানান, ইংরেজি বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। দিনটি শিক্ষার্থীদের কাছে উৎসবের আমেজ বয়ে আনে। কিন্তু নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বই বিতরণের সময় বিবিধ খরচের টাকা দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০—১৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন তিনি। যারা টাকা দিতে পারেনি, তাদেরকে বই দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবক প্রভাষক নজরুল ইসলাম গাজী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার ছেলে ওই বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমার ছেলে একটি মাধ্যমে আমাকে টাকা চেয়ে খবর পাঠায়। পরে আমি তখনই বিদ্যালয়ে যাই। পরে সবার কাছ থেকে টাকা আদায় করার বিষয়টি জানতে পারি এবং প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জিজ্ঞেস করি। তিনি জবাবে বলেন—বিবিধ খরচ নিচ্ছেন। বিবিধ খরচ পরীক্ষার সময় ছাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। তৎক্ষণাৎ এ বিষয়ে আমি ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ করি এবং তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন।
অপরদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সবুজ খান বলেন, যে ব্যক্তি ইউএনওকে অভিযোগ করেছেন তিনি ভিন্ন কারণে আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। আজ বই বিতরণ করার সময় কোনো ধরনের টাকা আদায় করা হয়নি। উপস্থিত সবাই বই পেয়েছেন, অন্যরা উপস্থিত হলেই তাদের বই দেওয়া হবে। তবে একাধিক অভিভাবক কেন অভিযোগ করছেন সে বিষয়ে ধারণা নেই বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নুরুন্নবী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ইউএনও স্যার বিষয়টি আমাকে অবগত করেছিলেন। পরে শুনেছি পাওনা টাকা রশিদের মাধ্যমে আদায় করেছিলেন। কিন্তু বই বিতরণের সময় টাকা আদায়ের কোনো সুযোগই নেই। বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।