চিকিৎসকের কানের পর্দা ফাটালেন ঢাবি শিক্ষার্থী, ভুক্তভোগীর অভিযোগ

০৯ আগস্ট ২০২২, ১০:০১ AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছয়-সাতজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (৮ আগষ্ট) রাত নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজ মঙ্গলবার শাহবাগ থানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসকের নাম এ কে এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

জানা যায়, ভুক্তভোগী সাজ্জাদ শহীদ মিনারে বসে ছিলেন এমন সময় ছয় থেকে সাত জনের একটি দল তাঁর কাছে আসে যাদের ঢাবির লোগো সম্বলিত টিশার্ট গায়ে ছিল। তারা আইডি কার্ড দেখতে চায় কিন্তু তিনি আইডি মেডিকেলে রেখে আসার কথা জানালে তাঁকে ব্যাপক মারধর শুরু করে। কানে থাপ্পর দেয়ায় কানের পর্দার আশেপাশে রক্তক্ষরণ হয়। ডান পাশের কানে কম শুনতে পাচ্ছেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ। নাকে আঘাত লাগার কারণেও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। 

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুকে ডি-লিট দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ভুক্তভোগী সাজ্জাদ বলেন, কলেজ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা শেষে রাত নয়টার দিকে আমি শহীদ মিনারের দিকে যাই। সেখানে আমি একা একা বসে বাদাম খাচ্ছিলাম। তখন আমি দেখি যে, দুই-তিন জন করে একেকটা দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু ছেলে শহীদ মিনারে আগতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, অনেককে সেখান থেকে উঠিয়ে দিচ্ছে। তারা কেন এটা করছিলো আমার জানা নেই। এক পর্যায়ে তিনজন এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি সেখানে কী করছি। আমি বললাম, ‘আমি বসে আছি।’

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সাজ্জাদ বলেন, তখন তারা আমার পরিচয় জানতে চায়। আমি আমার পরিচয় দিলে তারা আমার পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আমার কাছে পরিচয়পত্র নেই জানালে তারা আমাকে বলে, ‘পরিচয়পত্র নেই কেন? আমাদের কাছে তো পরিচয়পত্র আছে।’  তখন আমি বললাম, ‘সবাই কী সবসময় পরিচয়পত্র নিয়ে ঘোরে?’ এই কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে একজন থাপ্পড় মেরে বসে। এরপর আরো দুই তিন জন এসে আমাকে চড়-থাপ্পর মারা শুরু করে। 

তিনি বলেন, মারধরের একপর্যায়ে আমি চিৎকার করে বলে উঠি, ‘আপনারা চাইলে আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে আমার পরিচয়পত্র দেখে আসতে পারেন।’ এই কথা বলার পর তারা হয়তো বুঝতে পারে যে, আমি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র। তখন আমি কাউকে ফোন দিয়ে এনে হয়তো ঝামেলা করতে পারি, এই ভয়ে তারা আমাকে দ্রুত ওই স্থান থেকে বিদায় করার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠে।

‘আমি চলে যাওয়ার সময় যে পারছিল, সেই আমাকে মারধর করছিল এবং চলে যেতে জোর করছিল। ঠিক এই সময় কেউ একজন আমার কানের ওপর জোরে থাপ্পর দিলে আমি বসে পড়ি। বসে কেন পড়লাম, এই অপরাধে একজন জুতা পায়ে আমার মুখে লাথি মারে। একারণে আমার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। এরপর আমি চলে যেতে উদ্যত হলে যাওয়ার পথে যে যেভাবে পেরেছে আমাকে মারধর করেছে রিকশায় ওঠার আগ পর্যন্ত। আমাকে ৮ থেকে ১০ জনের মতো মারধর করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিনতাই ছিল নাকি অন্যকিছু ছিল জানি না।’

মারধরকারীদের কেউ কেউ নেশাগ্রস্ত ছিলো বলে জানান সাজ্জাদ। তিনি বলেন, আমাকে মারার সময় অনেক শরীরের ভারসাম্য রাখতে পারছিলো না। আমাকে একজন মারার পর পড়ে যেতে দেখেছি। তাদের লক্ষণ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো যে তারা নেশাগ্রস্ত। তাদের আচার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না।

মারধরকারীদের কাউকে চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, তাদের প্রায় সবার গায়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোওয়ালা টি-শার্ট ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তাদের পরিচয় জানা বা বোঝার উপায় ছিল না। তবে সবাই একটু হালকা পাতলা গড়নের ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এই বিষয়ে ফর্মালি কোন অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ আসলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের যদি কেউ হয়ে থাকে তাহলে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ট্যাগ: ঢাবি
ময়মনসিংহে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
চলন্ত ট্রেন থেকে ছিটকে পড়লেন পুলিশ সদস্য
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
গাইবান্ধায় নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
নওগাঁয় বজ্রপাতে কৃষক নিহত, আহত ৪
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা র‍্যালি ও মশক নিধন কার্…
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
র‌্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীবের দায়িত্ব গ্রহণ
  • ২৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence