জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
পার্ট টাইম পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কর্তৃপক্ষ। আজ রবিবার (১৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে সিনেট হলে অনুষ্ঠিত শিক্ষা পর্ষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ওইদিন সকালে বোর্ড অব এ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশ নিয়েছেন এমন একাধিক শিক্ষক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একজন অধ্যাপক বলেন, আজকের শিক্ষা পর্ষদের সভায় পিএইচডি ও এমফিল ভর্তির সংশোধিত নীতিমালা নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। এতে পার্ট-টাইম (ছুটি না নিয়ে) পিএইচডি ও এমফিল করার সুযোগ থাকছে না। কিছু ব্যাপারে ভিন্নমত থাকায় সেটি পুনঃপর্যালোচনার জন্য ডিন মহোদয়দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন ডিনস কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলা অনুষদের আরেকজন অধ্যাপক বলেন, আগে অনেক সরকারি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি না নিয়ে পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রীতে ভর্তি হতেন। এতে গবেষণার মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থেকেই যেতো। সেজন্য শিক্ষা পর্ষদের আজকের সভায় এ ছুটি নেয়াটা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ছুটির সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন মতামত আসায় তা ঠিক করার জন্য ডিন মহোদয়দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একজন শিক্ষক তার অধীনে একসাথে সর্বোচ্চ ১০ জন পিএইচডি ও এমফিল গবেষণাকারীকে ভর্তি করাতে পারবেন। এক শিক্ষাবর্ষে একজন পিএইচডি ও একজন এমফিল শিক্ষার্থী ভর্তি করার প্রস্তাবনা থাকলেও কেউ কেউ দুইজন এমফিল শিক্ষার্থী ভর্তি করার মতামত দিয়েছেন। সভায় এমফিল ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃত জার্নালে একটি ও পিএইচডির জন্য ২টি রিসার্চ আর্টিকেল থাকার প্রস্তাবনা থাকলেও তা নিয়েও কেউ কেউ আপত্তি তোলেন। একই শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ও রিসার্চ আর্টিকেলের বিষয়টি আপত্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে ডিনস কমিটি নির্ধারণ করবেন। শিক্ষা পর্ষদের পরের সভায় সব বিষয় চূড়ান্ত হবে।
গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের একজন অধ্যাপক বলেন, জাবির পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রীর মান সমুন্নত রাখার জন্য এটি প্রথম পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি প্লেজারিয়াজম চেক করার জন্য যে নীতিমালা তাও অনুমোদিত হয়েছে। আশা করি ভালো কিছুই হবে।