রাবির অবৈধ নিয়োগে বশেফমুবিপ্রবি উপাচার্যের জামাতার নাম!

০৭ জুন ২০২১, ১২:৫০ PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের মেয়াদের শেষ দিনে 'অবৈধ' ভাবে ১৩৭ জন অ্যাডহক (অস্থায়ী) ভিত্তিতে নিয়োগ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমদের জামাতাও। সৈয়দ শামসুদ্দিন রাবির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক।

এরআগে, নিজের মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা শিথিল করার অভিযোগ রয়েছে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে। 

বিদায়কালে দেয়া গণ নিয়োগে অধ্যাপক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমদের জামাতা ড. শাহরিয়ার মাহবুব নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের প্রভাষক পদে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের বর্তমানে ২৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। সেখানে অ্যাডহক (অস্থায়ী) শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। বিভাগের প্ল্যানিং কমিটিরও কোনো চাহিদা ছিলো না। উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের সাথে অধ্যাপক সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই এই নিয়োগ হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। 

শাহরিয়ার মাহাবুব ছাড়াও এই নিয়োগের তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষকদের সবাই হয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের নিকটাত্মীয়।

তাদের মধ্যে রয়েছেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনীক মাহমুদের ছেলে ঋত্বিক মাহমুদ সংগীত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক চিত্তরঞ্জন মিশ্রর ছেলে ইন্দ্রনীল মিশ্র। ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিহা ইয়াসমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেন্টার অব এপিলেন্স ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক (আইটি) হিসেবে। 

ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিভাগের অধ্যাপক শেরেজ্জামানের আত্মীয় মো. মনিরুজ্জামানকে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন মুনের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে মন্নুজান হলে সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে শরীরচর্চার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরবি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এম মুস্তাফিজুর রহমান নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন। 

উপাচার্য যখন হজে গিয়েছিলেন, তখন তার দলের দলনেতা ছিলেন তিনি। শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর স্ত্রী। কলেজ পরিদর্শক ও অধ্যাপক আবদুল গণির স্ত্রী ফারহানা একরাম নিয়োগ পেয়েছেন তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে। সহকারী আবাসিক শিক্ষিকা হিসেবে রহমতুন্নেছা হলে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন রিয়াজির স্ত্রী বুরুজ ই জোবাইরা।

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ সকল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা যে সকল পদের বিপরীতে নিয়োগ অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন সে সকল পদে কিছু কিছু পদে নিয়োগ  বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছিলো অর্থাৎ নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন তাই সকল জায়গায় অ্যাডহক নিয়োগ দেয়ার সুযোগ আছে কিনা সে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ৷

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিভাগের প্লানিং কমিটি শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানাবে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। আবেদন পত্র জমা হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভাগে পাঠাবে ত্রুটিনি (Scrutiny)/বিবেচনার জন্য। বিভাগের প্লানিং কমিটির দ্বারা সম্পূর্ণ ত্রুটিনি হওয়ার পর আবেদনপত্র পাঠানো হবে বিশেষজ্ঞ সদস্যের কাছে। বিশেষজ্ঞ সদস্যের মতামত পাওয়ার পর উপাচার্য সিলেকশন বোর্ডের সভা আহবান করবেন। উক্ত সিলেকশন বোর্ডের সভাপতি উপাচার্য, অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিভাগের সভাপতি, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ সদস্য এবং সিন্ডিকেট কর্তৃক মনোনীত ২ জন সিন্ডিকেট সদস্য। সিলেকশন বোর্ড লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার পর বিজ্ঞাপিত পদের সংখ্যা অনুযায়ী বোর্ড সুপারিশ করবে এবং সিন্ডিকেট অনুমোদন করলে বিভাগে যোগদান করতে পারবে (R.U. Act, 1973 (Sec. 29)।

বিভাগের প্লানিং কমিটির মূলত কাজ হলো:

(a) Expansion of the Department;

(b) Appointment of teachers. (R.U. Act. 1973 (Sec. 29/6). উপাচার্য প্লানিং কমিটির সুপারিশ ব্যতিরেকে কখনও শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেন না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত যতগুলি শিক্ষক Adhoc appointment হয়েছে- তা বিভাগের প্লানিং কমিটির সুপারিশে হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা জানান, আমরা এ নিয়োগের বিষয়ে অনেক নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। তবে যাই হোক না কেন, আপাতত এই নিয়োগ কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ বলে মনে হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, মেয়াদের শেষ দিনে এসব (অ্যাডহক) অস্থায়ী  নিয়োগ অবৈধ বলে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্ত শেষে কমিটি এই নিয়োগে দুর্নীতি প্রমাণ পেয়েছে। ফলে নিয়োগ বাতিলের সুপারিশসহ এম আব্দুস সোবহানের বিদেশগমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নিয়োগ স্থগিত ঘোষণা করায় তালিকায় স্থান পাওয়া কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন নি।

রিলেটেড সংবাদ: 

রাবির ‘অবৈধ’ গণনিয়োগের হোতা সাবেক সেই ছাত্রলীগ নেতা

রাবিতে এডহকে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদে যোগদানের দাবি

রাবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলেন অবৈধভাবে অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্তরা

বুটেক্সে থিসিস ও ইন্টার্নে নগণ্য বাজেট: ভোগান্তিতে শিক্ষার্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
চবিতে সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধিসহ ৩ শিক্ষার্থীকে স্থানী…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে আবিদ-সুমিতের হুঙ্কার, ‘চুপ থাক, নইলে গুল…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা এলেও সীমিত জাহাজের চলাচল
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমা…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬