রাবি প্রাঙ্গণ যেন শহীদের রক্তে বিজয়ের সুঘ্রাণ

১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৭ AM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো

ঘরে-বাহিরে লাশ! নদীর তীরে লাশ! নিরীহ মায়ের আর্তচিৎকার! হায়েনা কর্তৃক বোনের ইজ্জত লুট! বাতাসে লাশের গন্ধ! শহীদের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ! অন্তরে প্রতিশোধের ক্ষোভ! দুর্বার সংগ্রাম! মুক্ত বাতাসে লাল-সবুজের পতাকা! অবশেষে বাঙালির বিজয় উল্লাস।

লাখো শহীদের রক্ত ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি অর্জন করেছে মহান এই বিজয়। যার পেছনে রয়েছে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-শিক্ষক এবং আম জনতাসহ সকল শ্রেণির মানুষের সংগ্রাম ও ত্যাগের অবিস্মরণীয় এক অবদান। যার উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে রযেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। স্মরণীয় হয়ে আছে সেখানকার ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের চিত্র।

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তি সংগ্রাম, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে বিজয়ের দামামা বেজেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। যেখানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। ১৯৬৯ সালের অধিকার আদায়ে ছাত্ররা যখন সংগ্রামে নেমেছিল তখন তাদের রক্ষার্থে পাক-বাহিনীর অত্যাচারের কাছে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিল তৎকালীন প্রক্টর শহীদ ড. শামসুজ্জোহা। যার আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধিকার আন্দোলনে যুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে ৭৫৩ একর জুড়ে সর্বদা হানাদার বিরোধী মুক্তির নিশান উড়িয়েছে তাঁরা নির্ভীক চিত্তে। কেননা আমরাই সেই জাতি যারা বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের জীবন দিতে কুণ্ঠাবোধ করিনি।

খুনি ও অত্যাচারী পাক হানাদার বাহিনী যখন ক্যাম্পাস প্রঙ্গণে ঘাঁটি গেড়ে বসেছি তখন হানাদার মুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হানাদারদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সেদিন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন্ত শহীদখ্যাত অধ্যাপক ড. মজিবর রহমান দেবদাস। এমনকি তাদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনে শাহাদতবরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক হবিবুর রহমান, ভাষা (সংস্কৃত) বিভাগের অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মীর আবদুল কাইউম, স্টেনো টাইপিস্ট (প্রশাসন) শেখ এমাজউদ্দিন, সুইপার (স্টুয়ার্ড শাখা) মোহনলাল, বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল মান্নান আখন্দ, বাংলা শেষ বর্ষের ছাত্র আমীরুল হুদা জিন্নাহসহ আরো অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই মহান অবদান, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতিচিহ্ন জাতির কাছে চির অম্লান করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চত্বরে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন স্থাপত্যশিল্প। যে স্থাপত্যশিল্পগুলো চির দণ্ডায়মান অবস্থায় স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তি-সংগ্রামের কথা এবং স্বপ্ন দেখায় বিজয়ের।

সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্য: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ভাস্কর্যের মধ্যে অন্যতম এটি। মুক্তিযোদ্ধের প্রত্যক্ষ চিত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাবাস বাংলাদেশে’ ভাস্কর্য। স্বাধীনতার জ্বলন্ত প্রতীক হিসেবে স্থাপিত এই ভাস্কর্যটি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী চিত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের যে প্রতীকী ভাস্কর্যগুলো রয়েছে তার মধ্যে প্রকাশ-ভঙ্গির সরলতা, গতিময়তা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তেজস্বী বহিঃপ্রকাশ ও নন্দনতাত্ত্বিক দিক থেকে এই ভাস্কর্যটি অনবদ্য। যেটা সর্বদা ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধের ত্যাগ, সংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান করে।

শহীদ স্মৃতি সংগ্রশালা: যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিলপত্র স্মরণীয় আর সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়াসে ১৯৭৬ সালে নির্মাণ করে সে-বছরই ২১ ফেব্রুয়ারি সংগ্রহশালাটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ৬ মার্চ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সরকারের তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা আবুল ফজল।

বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদম পশ্চিমে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের পাশে অবস্থিত বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নিরাপরাধ মানুষকে তুলে এনে এখানে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। তাদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার উদ্দেশ্যেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। যেটা শিক্ষার্থীদের কাছে পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংসতার নির্মম চিত্র তুলে ধরে।

বুদ্ধিজীবী চত্বর: স্বাধীনতা যুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ক্যাম্পাসে নির্মিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর। যা বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস। শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নয় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতিস্তম্ভগুলো।

স্মৃতিস্তম্ভগুলো তথা চিরসবুজ এই ক্যাম্পাস মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদের রক্তের কথা স্মরণ করিয়ে বিজয়ের সুঘ্রাণ ছড়াতে থাকে।

হাওরে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সাড়ে ৮টার মধ্যে প্রবেশ নিয়ে যে নির্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় ও অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের …
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জবি প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি হলেন শাহরিয়ার হোসেন
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ নিয়ে ডিএমপ…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বড়াইবাড়ি দিবসে শহীদদের মাগফেরাত কামনা এনসিপির
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬