হল না খুলে ঢাবির পরীক্ষা, ক্ষোভ সাদ্দামের

১১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৪ PM
সাদ্দাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেন © ফাইল ছবি

আবাসনের নিশ্চয়তা না দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনার্স-মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত একতরফা বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেছেন, এটা শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী এবং বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যহীন।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে সাদ্দাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আবাসনের নিশ্চয়তা না দিয়ে শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা ও মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত একতরফা, শিক্ষার্থী-স্বার্থ বিরোধী এবং বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যহীন।

তিনি বলেন, সেশনজট নিরসনকল্পে এবং বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জরুরি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অধিকার-সুযোগ-ন্যায়ানুগ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য না দিয়ে, মাসের মাঝখানে ১৬ দিনের নোটিশে, বাড়ি ভাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা-আর্থিক সংস্থান কীভাবে হবে সে বিষয় না ভেবে, মেয়েরা কোথায়-কিভাবে থাকবে সে বিষয়ে দৃষ্টিপাত না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। অবশ্যই হলে আবাসনের নিশ্চয়তা রেখে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাদ্দামের পরামর্শ, একই সঙ্গে ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যাতে ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় সেজন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসূচীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়াও প্রয়োজন।

এদিকে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরনের দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনার্স শেষবর্ষ ও মাস্টার্স-এর পরীক্ষাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউট থেকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সময়সূচি জানতে পারবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে পরীক্ষাসমূহ তুলনামূলক কম বিরতিতে বা একইদিনে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময়কাল হবে বিদ্যমান নির্ধারিত সময়ের অর্ধেক। একইভাবে ল্যাব-কেন্দ্রিক ব্যবহারিক পরীক্ষাসমূহ নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও হল বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত তাদের ব্যর্থ প্রশাসনিক কাঠামোর-ই একটি অংশ। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলা ছাড়া পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত কি যৌক্তিক? এ বিষয়ে ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ফেসবুক গ্রুপে একটি পুল খোলা হয়। উক্ত পুলে গত ১৪ ঘণ্টায় (এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত) ৩ হাজার ৪১৯ জন শিক্ষার্থী অযৌক্তিকতার পক্ষে ভোট দেয় এবং ১৬৫ জন শিক্ষার্থী যৌক্তিকতার পক্ষে ভোট দেয়।

সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন ফখর জামান
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের খবরে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
দোসর সাংবাদিকদের বিচারের দাবিতে ‘মার্চ টু প্রধানমন্ত্রীর কা…
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
হামরোগ বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করল এনডিএফ
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
২০২০ সালের পর হাম রোধে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
কারিগরি শিক্ষকদের মার্চ মাসের বেতনের চেক ছাড়
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
close