ধর্ষণ নিয়ে তদন্তে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পেয়েছে কমিটি

ধর্ষণ নিয়ে তদন্তে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তথ্য পেয়েছে কমিটি
হাসান আল মামুন, ছাত্র অধিকার পরিষদের লোগো ও নুরুল হক নূর  © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান বিন ইয়ামিন মোল্লা।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের মেয়াদ আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থ বারের মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলো। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন জমার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। যার ফলে তদন্তের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

এদিকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিযোগের ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত পেয়েছি। এটি এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, আমরা ওই ছাত্রী এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের অভিযুক্তদের জবানবন্দী নিয়েছি। সবার বক্তব্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই গুরুতর, সেজন্য আমরা খুব সাবধানে কাজ করার চেষ্টা করছি। সবকিছু শেষ হলে আমরা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে তুলে ধরবো।

তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর প্রতিক্রিয়া জানতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ নয়। কেননা আমি মামলা করার পরই কমিটির প্রধান বিন ইয়ামিন মোল্লা আমার বিরুদ্ধে ঢাবিতে বিক্ষোভ করেছিলেন। এই কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান।

প্রসঙ্গত, গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর, ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ সংগঠনটির ছয় নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করেন।

এই মামলার তদন্ত করতে পরিষদের পক্ষ থেকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দেয়া হয়। প্রথম দফায় প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় ৭২ ঘণ্টার সময় বৃদ্ধি করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর। এই মেয়াদেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। ফলে চতুর্থ বাড়ের মতো প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হলো।


মন্তব্য