ডেঙ্গুতে আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীর মৃত্যুই আমার ওষুধ আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা

© টিডিসি ফটো

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপে দেশব্যাপী অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেই মারাত্মক ব্যাধি থেকে জনসাধারণকে রক্ষা করার আশা নিয়ে একবছর ধরে কাজ করে অবশেষে মশা নিধন ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

তরুণ এই শিক্ষার্থীর নাম এইচ এম রঞ্জু। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী।

মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে যে ওষুধ আবিষ্কারের দাবি তিনি করেছেন সে বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তরুণ এই গবেষক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিদ্দিক ফারুক।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন?

রঞ্জু: ওয়ালাইকুমুস সালাম। ভালো আছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কাজ করার পেছনে কারো উৎসাহ বা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন?

রঞ্জু: গত বছর অক্টোবর- নভেম্বর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এতে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই জিনিসটা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করে। তখন থেকে আমার মধ্যে একটা জিনিস ঘুরপাক খাচ্ছিল। সেটা হলো, কম মূল্যে জনসাধারণের হাতে পৌঁছে দেওয়ার মতো ওষুধ যেটা মানুষকে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো ব্যাধি থেকে বাঁচাবে। সেই সময় আমার আত্মীয়-স্বজন, একাধিক শুভাকাঙ্ক্ষী, কাছের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সেখান থেকে আমি উৎসাহ পাই। আমি কাজ শুরু করি। বিভিন্ন এভিডেন্স সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু করতে থাকি অবশেষে আমি সফল হই। এটাই আমার অনুপ্রেরণার শক্তি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কোন উপাদান দ্বারা ওষুধটি তৈরি করেছেন?

রঞ্জু: আমি এমন ধরনের কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করতে থাকি যা আমাদের ত্বকের জন্য সহনীয় ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। সবশেষে আমার এই ওষুধটিতে কেমিক্যাল এবং ভেষজ উভয় উপাদানই ব্যবহার করা হয়েছে। এই ওষুধের কার্যকরী দিক হচ্ছে এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

তৈরিকৃত মশার বিরুদ্ধে কার্যকরী এই লিকুইড ন্যাচারাল ও কেমিক্যালের সমন্বয়ে তৈরি। এর কেমিক্যাল উপাদানগুলো প্রতিনিয়তই স্যানিটাইজার, কসমেটিকস ও ওষুধের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে জানান রঞ্জু। ঘন তরল পদার্থ হওয়ায় এটা শরীরে মাখলে দীর্ঘসময় কার্যকর থাকে। এর উপাদানগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম হচ্ছে কেমিক্যাল। এর উপাদানগুলো হচ্ছে সোডিয়াম লরাইল সালফেট, ইথাইল ল্যাকটেট, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, গ্লিসারিন ও পারফিউম। দ্বিতীয় উপাদান হচ্ছে ন্যাচারাল। এগুলো হচ্ছে মারগোসা ওয়েল, লেমন সাইট্রাস, পেপারমিন্ট ও ক্লোভ ওয়েল। এছাড়াও রয়েছে ইনার্ট ইনগ্রেডিন্ট যা মশার বিরুদ্ধে কার্যকরী। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে এর আগে একটি প্ল্যান্টও তৈরি করেছেন বলে জানান এই গবেষক।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: মশার প্রকোপ থেকে কিভাবে রক্ষা করবে এই ওষুধ?

রঞ্জু: এটি ব্যবহারের চার ঘন্টার মধ্যে কোন মশা আক্রমণ করবে না।। এর পরবর্তী তিন ঘন্টার মধ্যে ৯৫% মোকাবিল করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। প্রায় ১০০ জন মানুষের উপর আমি পরীক্ষামূলক ট্রায়াল করেছি। তাতে আমি পুরোপুরি সফল হয়েছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার আশা আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আপনি কতটুকু সফল হতে পারবেন বলে মনে করেন?

রঞ্জু: আসলে আমি একার পক্ষে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই নব-আবিষ্কৃত পণ্য পৌঁছাতে পারবো না। সরকারি মহল অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকর্ম যদি আমাকে সাপোর্ট দিয়ে যায় তাহলে আমার বিশ্বাস আমি ১০০% সফল হতে পারবো।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: কবে নাগাদ এই পণ্য আপনি বাজারে তুলতে পারবেন বলে মনে করেন?

রঞ্জু: আমি চাচ্ছি এই বছরের মধ্যে আমার পণ্যটা বাজারে তুলতে। এ ক্ষেত্রে যাদের সহযোগিতা দরকার। তারা যদি আমাকে যথাযথ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে সম্ভব বলে মনে করি। কারণ, করোনা (কোভিড১৯) এর ফলে দেশে একটি আর্থ-সামাজিক, পলিটিকাল সংকটের মধ্যে আছে। তারই প্রেক্ষিতে যদি আবার ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া’র মতো ব্যাধি যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে এক মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে এই দেশ। তা থেকে রক্ষা করতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আপনার এই গবেষণা কর্মে বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান কি সহযোগিতা করেছে?

রঞ্জু: প্রথমত, আমার বিভাগ তথা ‘ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ’ আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আমার শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে ছিল। পাশাপাশি ‘সরকারী ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ আমাকে সহযোগিতা করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে আমার এক আংকেল আছেন উনি আমার পাশে ছিলো সবসময়।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: জনসাধারণের জন্য আপনার পণ্য কতটুকু ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে আপনি মনে করেন?

রঞ্জু: সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকার কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি আমাকে যথাযথ সহযোগিতা করেন তাহলে বাজারে প্রচলিত মশার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে ইনসেক্টিসাইড রয়েছে তার চাইতে কম মূল্যে আমার পণ্য পাওয়া যাবে বলে আশা রাখছি।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রঞ্জু: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আমদানির চালান যাচাইয়ে আর কাগজপত্রের ঝামেলা থাকছে না
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি এনটিআরসিএর মাধ্যমে হবে’
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
শেরপুর-৩ আসনে ভোটকে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে দুই উপজেলা
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সত্তরের দশকের চেয়েও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার 
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বিসিবিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনে আসিফ মাহমুদের রহস্যময় পোস্ট
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close