হল ছাত্রসংসদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ওমর বিন কাসেম ইফতি। © টিডিসি ছবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্যার এ. এফ. রহমান হলে এক মাসের মধ্যে টানা দুইবার পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার ছাদ ও সিলিংয়ের পলেস্তারা হল ছাত্রসংসদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ওমর বিন কাসেম ইফতির শরীরের ওপর পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে হলটির ৪০৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আহত ওমর বিন কাসেম ইফতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পলেস্তারার আঘাতে তার হাঁটু সামান্য কেটে গিয়েছে এবং হাতে ব্যথা পেয়েছেন। তবে অল্পের জন্য মাথায় পলেস্তারা পড়েনি বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওমর বিন কাসেম ইফতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এক বছর আগে রুমের ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়া রোধ করতে এবং সিলিংয়ের ভাঙা অংশ প্লাস্টার করা হয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই পুনরায় পানি চুইয়ে পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। প্লাস্টার ও ঢালাইয়ের কিছু অংশ ধীরে ধীরে খুলে যেতে থাকে এবং আজ সেগুলো ভেঙে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু এক সেকেন্ড এদিক-সেদিক হলেই আজ পায়ে সামান্য আঘাত পাওয়ার বদলে মাথা ফেটে যাওয়া বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। অথচ এই রুমের ছাদ ও সিলিংয়ের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে এক বছরও হয়নি। আজকের ঘটনাটি সেই সংস্কারকাজের মান নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।’
ইফতি বলেন, ‘তেমন সিরিয়াস কোনো ইনজুরি হয়নি। অল্পের জন্য আমার মাথায় পড়েনি।’
এর আগে গত ১৬ আগস্ট একই হলের ৩২৮ নম্বর কক্ষের সামনের সিঁড়ির ওপরের অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। ওই ঘটনায় ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে খসে পড়ল পলেস্তারা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। এর মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে আবারও পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আরো পড়ুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে খসে পড়ল পলেস্তারা, আতংকে শিক্ষার্থীরা
হল ছাত্রসংসদের এই নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কারকাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং অধিদপ্তর, সংস্কারকাজের ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কাজের মান ঠিক না থাকা এবং বাজেটের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ওমর বিন কাসেম ইফতি আরও বলেন, ‘অনেক সময় এসব বিষয়ে অভিযোগ বা প্রমাণ সামনে এলেও সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক বছর চাকসুর দায়িত্বে থাকার কারণে সংস্কারের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কী পরিমাণ অনিয়ম হতে পারে, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে যদি এ ধরনের অনিয়ম থেকে থাকে, তাহলে হল প্রভোস্ট থেকে শুরু করে চাকসু পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের অনেকটাই অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়। তাই আজকের ঘটনাকে শুধু একটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে হবে না। সংস্কারকাজের মান, তদারকি ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
এদিকে প্রতিবেশী আবাসিক আলাওল হল ছাত্রসংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার এ. এফ. রহমান হল সংসদের বিজ্ঞান, গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদকের রুমের সিলিং ভেঙে আহত হয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২১% শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। তার মধ্যে ছেলেদের কয়েকটি হলের বেহাল দশা। দেখার মনে হয় কেউ নেই।’
চবির এ. এফ. রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার বরাতে হল সংসদ নেতা ওমর বিন কাসেম ইফতি জানান, পলেস্তারা খসে পড়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রভোস্ট আলম স্যারসহ হলের সুপারভাইজাররা ঘটনাস্থল দেখতে আসেন। তিনি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. সফিকুল ইসলামকে জানিয়েছেন এবং খসে পড়া অংশের ছবিও পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. সফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।