ঢাবির মুজিব হলে নবীনদের বরণে ভয়ের সংস্কৃতি বিলোপের বার্তা © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রথম হল হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে জমকালো আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে জার্সি, ক্রেস্ট, কলম, ডায়েরি ও চাবির রিং তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের জন্য রাতের খাবারেরও আয়োজন করে হল সংসদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া হলটির বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মুজিব হল ছাত্র সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান বলেন, আমরা এই আয়োজনগুলোর মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চাই ক্যাম্পাসে নবীনদের জন্য আগে যে ভয়ের সংস্কৃতি ছিল, সেটি আর নেই। তারা যে স্বপ্ন নিয়ে এই ক্যাম্পাসে এসেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হলকেন্দ্রিক যে বাধাগুলো ছিল, আমরা সেগুলো অপসারণ করেছি। নতুন একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে নবীনদের পরিচিত করিয়ে দেওয়াই আজকের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।আগের গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির কবর রচনা করবে আমাদের এই নবীনবরণ সংস্কৃতি।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ ডাকসুর শেষ দিন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমরা যে কাজগুলো করেছি, তা ডাকসুর ১০৫ বছরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কাজ।
তিনি আরও বলেন, আমরা যখনই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোনো বাজেট পাস করাতে গিয়েছি, তখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘নাই, নাই’ বলে আমাদের কাজের পথে প্রতিবন্ধকতার দেয়াল তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ সময় তিনি আরো জানান, আগামীকাল থেকে ছাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইকো-ফ্রেন্ডলি বাস চালু করা হবে।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, আমি নব্বইয়ের দশকের শিক্ষার্থী। সে সময়ে আমরা কোনো নবীনবরণ অনুষ্ঠান পাইনি। তোমরা অবগত আছ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৭ বছরে এ ধরনের আয়োজন ছিল অনেকটাই স্বপ্নের মতো। তখন নবীনরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। সে তুলনায় আমাদের সময়কালীন শিক্ষাজীবন অনেকটাই সৌভাগ্যের ছিল।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হলে তোমাদের কোনো সমস্যা হলে তার যৌক্তিক সমাধানের জন্য আবেদন করবে। এটা তোমাদের অধিকার। তবে একই সঙ্গে শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে। আশা করি, তোমরা কোনো বিচ্ছিন্ন পথে না গিয়ে নিজেদের একাডেমিক জীবনে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অনুভূতি জানতে চাইলে মুজিব হলের নবীন শিক্ষার্থী রাহি আহমেদ বলেন, আমরা হলে উঠেছি প্রায় তিন মাস হতে চলেছে। অন্য কোনো হলে এ ধরনের নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয়েছে বলে শুনিনি। আমাদের হল সংসদ প্রথমবারের মতো এত সুন্দর ও জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বরণ করে নিয়েছে। বিশেষভাবে ভালো লেগেছে হল সংসদের পক্ষ থেকে জার্সি ও ক্রেস্ট পাওয়ায়। পাশাপাশি আমাদের জন্য রাতে সুন্দর খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এমন আয়োজনের জন্য হল সংসদকে ধন্যবাদ জানাই।
হল সংসদের আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যায় ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি রাত ১০টায় শেষ হয়।