ঢাবির সেমিকন্ডাক্টর রিসার্চ সেন্টার হতে পারতো পরবর্তী তাইওয়ান হওয়ার বীজ

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৮ AM , আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৪ AM
ড. কামরুল হাসান মামুন ও ঢাবির লোগো

ড. কামরুল হাসান মামুন ও ঢাবির লোগো © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য ড. কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, ঢাবির সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার হতে পারতো বাংলাদেশের ‘পরবর্তী তাইওয়ান’ হওয়ার বীজ। তবে দীর্ঘ ৪১ বছরেও এই গবেষণা কেন্দ্রটি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন এসব কথা বলেন।

তিনি লেখেন, একদম স্পট অন। কোন সন্দেহ নাই এতে। যাক এই প্রথম একজন সরকার প্রধান স্পষ্ট করে বললো যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত। কিন্তু অতীতে এইরকম কথা আমাদের অনেক সরকার প্রধান নানা খাত নিয়ে এইরকম অনেক কথাই বলেছে কিন্তু এইসব কথার কোন বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে দেখিনি। তাই শংকা জাগে এই প্রতিশ্রুতিও প্রতিশ্রুতি হয়েই আজীবন বাঁচবে কখনো বাস্তবে পরিণত হবে না। আমরা আর কত গার্মেন্টসের উপর নির্ভরশীল থাকবো আর বিদেশী কর্মী পাঠাতে থাকবো। Enough is enough! আমরা অনেক সময় অপচয় করে ফেলেছি। 

ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী কি জানেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার আছে? এই সেন্টারের বয়স ৪১ বছর। ৪১ বছরেও আমার দেখা ৩০ বছর আগেও যেমন একটি রুম নিয়ে খুবই জীর্ন শীর্ন সেন্টার ছিল আজও তার তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। অথচ এটি এমন একটি সেন্টার হওয়ার কথা ছিল যেখানে শত কোটি টাকার বিনিয়োগ থাকাবে। থাকবে পোস্ট ডক ও পিএইচডি ফেলো, হবে স্টেট অফ আর্ট সব গবেষণা ও ইন্ডাস্ট্রির সাথে নিবিড় যোগাযোগ। এটিই হতে পারতো আমাদের পরবর্তী তাইওয়ান হওয়ার বীজ। বর্তমানে তাইওয়ান হলো বিশ্বে একনম্বর সেমিকন্ডাক্টর চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং কান্ট্রি। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন—স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি এবং সামরিক সরঞ্জামের মূল ভিত্তি হলো এই চিপ। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন সেমিকন্ডাক্টর ফাউন্ড্রি হলো তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। বিশ্বের প্রায় ৬০% এরও বেশি সেমিকন্ডাক্টর এবং সবচেয়ে উন্নত বা লিডিং-এজ চিপের ৯০%-এরও বেশি একাই তৈরি করে টিএসএমসি।

আরও পড়ুন: ‘১০০ বছর আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আর আজকের বিজ্ঞপ্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব শংকায় আছে যেকোন সময় চীন হয়ত তাইওয়ানকে দখল করে নিবে। তাই তাইওয়ান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব একযোগে চিপ উৎপাদন নিজ দেশে স্থানান্তর, বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি ও চিপস অ্যাক্ট, জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে মিত্র-নেটওয়ার্ক তৈরি করে ভবিষ্যৎ সমস্যা   মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্য একটাই— চীন তাইওয়ান দখল করলেও যাতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ওপর তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত না হয়।

‘এছাড়া ২০২৩ সালে ভারতে জি-২০ মিটিং শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট  মাক্রোঁ আসেন বাংলাদেশে আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যান ভিয়েতনামে। সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনে তাইওয়ানের বিকল্প প্রস্তুত করে রাখার অংশ হিসাবে বাইডেন যখন ভিয়েতনামে যান সেখানে আমেরিকার জায়ান্ট অব ইলেকট্রনিক কোম্পানির সিইও যান কারণ আমেরিকা লক্ষ করেছে ভিয়েতনামও সেইভাবে প্রস্তুত হতে শুরু করে ২০০০ সাল থেকে। ঠিক তখন থেকে শিক্ষায় তাদের জিডিপির ৪.২% এর কাছাকাছি বরাদ্দ দিয়ে আসছে। এতে কি হয়েছে জানেন? ২০১৯ সালেও ভিয়েতনামের কোন বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে ছিল না কিন্তু উন্নতির সিঁড়িতে ছিল। ২০২০ সালে প্রথম এশিয়া রেঙ্কিং-এ আসে। আর গতকাল টাইমস এশিয়া রেঙ্কিং প্রকাশিত হওয়ার পর দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার সেরা ৩৫১-৪০০ এর মধ্যে আছে। সাথে আছে বুয়েটও।’

তিনি আরও লেখেন, অন্যদিকে ভিয়েতনামের কি অবস্থা জানেন? ভিয়েতনামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেঙ্কিং হলো ১৮৪ যেখানে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো ৩০১ এর বেশি। ভিয়েতনামের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেঙ্কিং হলো ২৫১-৩০০ এর মধ্যে এবং এটিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক অনেক ভালো। কিভাবে ভিয়েতনাম এত দ্রুত আগালো? কারণ ২০০০ সাল থেকে শুরু করে শিক্ষায় তাদের জিডিপির ৪% এর উপরে বরাদ্দ দেওয়া। শিক্ষায় ফল একটু দেরিতে আসে। ইউনিভার্সিটি রেঙ্কিং-এ তারা তাদের কাঙ্খিত ফল পাওয়া শুরু করে ১০২০ সাল থেকে। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বৃদ্ধির সাথে ভিয়েতনামের অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নতিও লক্ষণীয়। এইসব দেখেই আমেরিকা বুঝতে পারলো ভিয়েতনাম সঠিক পথেই এগুচ্ছে। আর আমরা কি করছি? 

‘প্রযুক্তি ও প্রকৌশলীতে উন্নতির ইঞ্জিন হলো ফান্ডামেন্টাল সাইন্স। এই জন্যই যারাই প্রযুক্তি ও প্রকৌশলীতে এগিয়েছে তাদের উন্নতির পথ একটু গবেষণা করলেই বুঝবেন তারা শুরু করে কিছু ফান্ডামেন্টাল সাইন্স ইনস্টিটিউট দিয়ে যেখানে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই লক্ষে গণিতে ফিল্ডস মেডেল পাওয়া শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিয়েতনামী-ফরাসি গণিতবিদ হলেন এনগো বাও চাউ। ভিয়েতনাম তাকে  ‘ভিয়েতনাম ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন ম্যাথমেটিক্স’ এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তাকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো  ভিয়েতনাম থেকে মেধার পাচার রোধ করতে, আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত গণিতবিদদের ভিয়েতনামের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত করা।’

ঢাবি শিক্ষক বলেন, অধ্যাপক নগো বাও চাউয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলো এর কোনো স্থায়ী গবেষক নাই। উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী গবেষক ছাড়াই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। বিদেশে কর্মরত ভিয়েতনামী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণিতবিদদের স্বল্পমেয়াদী ভিজিটিং গবেষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। চীনও শুরুতে একই মডেল অনুসরণ করে সাফল্য পেয়েছে। আমরাও এই মডেলকে কাজে লাগাতে পারি। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোস সেন্টারকে একটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট হিসাবে গড়ে এর জন্য বিশেষ মানের গেস্ট হাউস তৈরী করে বাংলাদেশী যারা বিদেশে ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটে ভালো গবেষক হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে তাদেরকে ৩ থেকে ৬ মাস বা ১ বছরের জন্য এনে আমাদের ছেলেমেয়েদের সাথে গবেষণায় যুক্ত করা। 

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, একই কথা প্রযোজ্য সেমিকোডাক্টৰ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্দেশ্যকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজে লাগিয়ে আমাদের সেমিকন্ডাক্টর রিসার্চ সেন্টারকে বিশ্বমানের হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব। সুবিধা হলো সেমিকন্ডাক্টর রিসার্চ সেন্টারটি তৈরী করেছিলেন বৰ্তমান ভিসি অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের মাস্টার্সের থিসিস সুপারভাইজরের হাতেই। আশা করি সেমিকন্ডাক্টর রিসার্চ সেন্টার ও বোস সেন্টার একটি নতুন মোমেন্টাম পাবে।

ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত হলো ‘এআইইউবিয়ান ইন ইউরোপ সিজন ২’
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভালো অবস্থানে বিএনপির শরিকরা, বিজয়ী ৫ জনের চারজনই মন্ত্রিসভ…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশেই হবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, এ বছরেই চালুর আশা স্বাস্থ…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিশিং বোটে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ জেলের
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিতসহ আরও ১০ স্থায়ী কম…
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিমরুলের কামড়ে প্রাণ গেল ৪ বছরের শিশুর, আহত ২
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9