ঢাবির জসীমউদ্দীন হল © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পর এবার জসীমউদ্দীন হলের ক্যান্টিনের খাবারে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে খাবার খাওয়ার সময় হলটির এক শিক্ষার্থী এই ব্লেড পান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্যান্টিন মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হল প্রশাসন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে জসীমউদ্দীন হলের ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার সময় ব্লেডটি দেখতে পান হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম কেডি। তিনি হাঁসের মাংস ও সবজি অর্ডার করেছিলেন। সবজি খাওয়ার পর হাঁসের মাংস নিতে গিয়ে খাবারের মধ্যে ব্লেডের অর্ধেক অংশ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী ও ক্যান্টিনের ম্যানেজারকে জানান।
এ বিষয়ে শরিফুল ইসলাম কেডি বলেন, ‘রাতে ভাবছিলাম ৭১ হলে গিয়ে খাব। কিন্তু আমাদের হলের ক্যান্টিনের মালিক পরিবর্তন হয়েছে শুনে এখানেই খেয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিই। হাঁসের মাংস ও সবজি অর্ডার করি। সবজি খাওয়ার পর হাঁসের মাংস নিতে গিয়ে দেখি সেখানে ব্লেডের অর্ধেক অংশ। সঙ্গে সঙ্গে হলের সিনিয়র ভাইদের ডাকি। পরে ক্যান্টিনের ম্যানেজারকে বিষয়টি দেখাই। তিনি বাবুর্চিকে ডেকে বকাঝকা করেন এবং আমার খাবার বদলে দেন।’
শরিফুল আরও বলেন, ‘খাবারে সাধারণত পোকা পাওয়ার ঘটনা দেখা যায়। কিন্তু ব্লেড পাওয়াটা অস্বাভাবিক। খাবারে ব্লেড পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে তিনি ছবি তুলে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেন। পরে বিষয়টি হল প্রশাসন ও হল সংসদের ভিপি জানতে পারেন।
এ ঘটনায় জসীমউদ্দীন হল সংসদের ভিপি মো. উসমান গণি বলেন, হল প্রশাসন ক্যান্টিন মালিক ও বাবুর্চিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে। তারা খাবারে ব্লেড থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে কাজ করলেও এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি বলে তারা জানিয়েছেন।
উসমান গণি বলেন, সম্প্রতি হলের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ থাকায় নতুন ক্যান্টিন মালিক আনা হয়েছে। খাবারের মানও আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ খাবারে ব্লেড পাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। মহসীন হলেও কিছুদিন আগে একইভাবে অর্ধেক ব্লেড পাওয়া গিয়েছিল। অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হল সংসদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এমনটা করতে পারে বলে সন্দেহ করছি।’
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্যান্টিন মালিককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান উসমান গণি। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হবে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে খাবারটি কে এনেছিল, কীভাবে তা পরিবেশন করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ কেমন ছিল। এরপর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে।
আরও পড়ুন: নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, ঢাবির ক্যান্টিনে তালা দিল হল সংসদ
এ বিষয়ে জসীমউদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৫ জুলাই শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ক্যান্টিনের খাবারে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন এ অভিযোগ করেন।
বাঁধন জানান, সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলের প্রধান ক্যান্টিন থেকে ভাত, খিচুড়ি, কালাভুনা ও সবজি নিয়ে খাচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে তরকারির মধ্যে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পান। পরে তিনি রুমমেটদের ডেকে বিষয়টি দেখান। ঘটনার ছবি তুলে হলের শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপেও দেন।
বাঁধন বলেন, ‘আমি প্রথমে কিছুটা খাবার খেয়েছিলাম। পরে তরকারি দিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ দেখি খাবারের মধ্যে ব্লেডের মতো একটি ধারালো বস্তু রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে রুমমেটদের ডেকে দেখাই। পরে ঘটনার ছবি তুলে হলের গ্রুপে পোস্ট করি।’
তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ভয়াবহ একটি ঘটনা। ব্লেডটি যদি অসাবধানতাবশত মুখে চলে যেত, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমন ঘটনা অন্য কারও সঙ্গেও ঘটতে পারে।’
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবিব বলেন, তারা নিয়মিত হলের ক্যান্টিনগুলো তদারকি করছেন। ঘটনার আগের দিনও একটি অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন বড় কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি।