প্রয়োজনে জান দেব, তবুও কখনো হাসিনাতন্ত্র ফিরতে দেব না: সাদিক কায়েম

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৯ PM , আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৪ PM
ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে বক্তব্য দিচ্ছেন সাদিক কায়েম

ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে বক্তব্য দিচ্ছেন সাদিক কায়েম © সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু বাংলাদেশে আর কখনো হাসিনাতন্ত্র ফিরতে দেব না। কেউ যদি হাসিনা হয়ে উঠতে চায় তাহলে আমরা আবু সাইদ হয়ে তাদের রুখে দিবো।’

নরসিংদীসহ সারাদেশে হওয়া ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

এসময় বিক্ষোভকারীরা, ‘ধর্ষণ আর স্বৈরাচার  মিলেমিশে একাকার, তারেক রহমান ধর্ষণ কর অবশান, ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষক কার্ড, বিচারের কি কার্ড?, আছিয়া থেকে নন্দীনী, ধর্ষকের বিচার দেখিনি, ফাসি ফাসি ফাসি চাই ধর্ষকের বিচার চাই, সহ বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমবেত হয়ে ডাকসুর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য প্রদান করেন। 

এসময় বাংলাদেশ আজ ভালো নেই মন্তব্য করে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী এত শাহাদাতের মাধ্যমে আমাদের আশা ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে আমার মা–বোনদের নিরাপত্তা থাকবে, যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাফিয়া তন্ত্র থাকবে না, যে বাংলাদেশে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। কিন্তু সরকার শপথ নেওয়ার পর ১২–১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা এই দেশের নাগরিকদের
জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, সম্পদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, মা–বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে ভিন্নমতের ওপর আক্রমণ চালানো হতো, ঠিক একই কায়দায় নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসীরা বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে। নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা চারটি লাশ পড়তে দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সারাদেশে অসংখ্য মানুষের সম্পত্তি দখল হতে দেখেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল সন্ত্রাসী আমাদের বোনদের ওপর হামলা করেছে। রামপুরায় পাঁচ বছরের একটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। মামলা করতে গেলে পরিবারকে বলা হয়েছে—“এটা দুর্ঘটনা, মেনে নিন।” 

সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই— এই ধরনের ‘দুর্ঘটনা’ মেনে নেওয়ার জন্যই কি জুলাই বিপ্লব হয়েছিল? এত রক্ত, এত শহীদের বিনিময়ে কি আমাদের আবার এই প্রতিবাদী বয়ান শুনতে হবে? নরসিংদিতে  ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। বিচার চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, এবং এক পর্যায়ে বাবার সামনে থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।"আজ পর্যন্ত আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে বা যারা ইন্ধন জুগিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আসতে দেখিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে খুনি হাসিনা গত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে, আয়নাঘর বানিয়ে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, যার শাসনে জুলাই বিপ্লবে আমাদের প্রায় ২০০০ ভাই–বোন শহীদ হয়েছে—আজ সেই খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। আমরা স্পষ্ট করে সাবধান করছি, খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে হবে।
খুনি হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে এনে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ—এই সন্ত্রাসী কাঠামোকে বিচারের আওতায় আনতেই হবে। এই দেশে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। একই সঙ্গে সারাদেশে যে ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্র চলছে, সেসব অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা কোনো পুলিশি রাষ্ট্র চাই না। যে পুলিশ নাগরিকদের ওপর হামলা করেছে—তাদের বিচার চাই, পদোন্নতি নয়। আমরা সবকিছু অবজারভ করছি। আমরা সময় দিতে চাই,কিন্তু যদি দেখি আপনারা জালেম হচ্ছেন, হাসিনার পথেই হাঁটছেন—তাহলে আবু সাঈদের উত্তরসূরি হিসেবে আমরা তা হতে দেব না। প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু বাংলাদেশে আর কখনো হাসিনাতন্ত্র ফিরতে দেব না। 

আর কোনো মা–বোনের ওপর হামলা হলে, আর কোনো ধর্ষণের বিচার না হলে, আমরা আবার রাজপথে নামব, গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে আহ্বান— প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, স্কুল, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলুন। অপরাধীদের ধরে থানায় দিন, প্রকাশ্যে বিচারের আওতায় আনুন।জুলাই প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশে ইনসাফ কায়েম করবে। শহীদ উসমান হাজীর দেখা
আজাদির লড়াই, ইনসাফের লড়াই, মা–বোনের অধিকার রক্ষার লড়াই—আমরা সে লড়াই জারি রাখব।

এ সময় জি এস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘অবাক করার বিষয়, বিএনপির একাধিক নেতা মিলিত হয়ে ধর্ষককে বাঁচাচ্ছে। আমার অবাক লাগে মিডিয়াগুলো তারেক রহমান কোন চেয়ার রেখে কোন চেয়ারে বসেছেন, তা ভিডিওসহ নিউজ হয়। তারেক রহমান সচিবালয় থেকে হেঁটে হেঁটে ফিরতেছে, এ ভিডিও দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের সময় হয়। কিন্তু এলাকায় বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে উঠে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে। আবার সেই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা লোকজনকে হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়ার ব্যবস্থা করে। এ বিষয়ে মিডিয়া ইনভেস্টিকেটেড কিছু বের করার সময় পায়না। এটা লজ্জা আমাদের জন্য।’

এ ছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং ক্রিয়া সম্পাদক আরমান হোসেন।

আসামিকে না পেয়ে আসামির ছোটভাই ও তার স্ত্রীকে পুলিশের মারধর
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চিকিৎসকদের যার বাড়ি যেখানে, চাইলে ওখানেই পোস্টিং দেব: স্বাস…
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে ভারত, …
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপে চালু হচ্ছে শিডিউল মেসেজিং সিস্টেম
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টেন্ডারকাণ্ডে জামায়াতের একাধিক নেতাকে মারধর: বিএনপির ৯ নেতা…
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ মাসের সেমিস্টার ৫ মাস, ১২ মাসের ইয়ার ১০ মাস করল ঢাকা বিশ্…
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬