চবিতে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড-২০২৬ অনুষ্ঠানে © সংগৃহীত
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম কলেজের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড (বিডিইও) ২০২৬-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী তাদের অর্থনৈতিক জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দেন।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এই আয়োজনে তিনটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সকাল থেকে রেজিস্ট্রেশন ও আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নিয়মাবলি ব্রিফিং শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। স্ক্রিপ্ট মূল্যায়ন ও বিরতির পর দুপুরে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
এছাড়া উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। মূল বক্তা ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং ব্র্যাক ব্যাংকের চট্টগ্রাম রিজিওনাল হেড কায়েস চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের এম্বাসেডর মো. মানসুরুল হক।
বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা ও প্রয়োগিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের দল চারটি পদক অর্জন করেছে।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এভাবে প্রতিযোগিতা ও আগ্রহ সৃষ্টি করা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রয়োগিক দিক সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করে তোলা। আর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অর্থনীতির শিক্ষা দেশ গড়ার দীক্ষা। চট্টগ্রামের মতো বাণিজ্যনগরে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলবে।
প্রতিযোগিতা শেষে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। জুনিয়র ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন মোসা. সুমাইয়া ইসলাম, মো. আনিসুর রহমান ও আদিত্য রাজন্না। ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হন মোহাম্মদ উহান্না, দ্বিতীয় মো. আলমান চৌধুরী এবং তৃতীয় মো. সাদিক রাশিদ ধন্য। এডভান্স ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন সাইয়রনা সোলাইমান সুবাহ, হুর-ই-জান্নাত ও জয় গোপাল বণিক। প্রথম স্থান অর্জনকারীদের নগদ অর্থ, সম্মাননা মেডেলসহ বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশব্যাপী অর্থনৈতিক সাক্ষরতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অর্থনীতি ও আর্থিক সচেতনতা নিয়ে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।