ঢাবির এফ এইচ হল ষোড়শ জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে © সংগৃহীত
‘বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ আয়োজিতদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘ষোড়শ জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ. এইচ. হল ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই বুদ্ধিবৃত্তিক মহাযজ্ঞের পর্দা নামে ১০ জানুয়ারি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩২টি স্কুল, ২৪টি কলেজ এবং ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
৭ জানুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এই আয়োজন নিছক বিতর্ক নয়, বরং ভবিষ্যৎ সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তার এক গভীর অনুশীলন।
টানটান উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এবং রানার্সআপ হয় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কলেজ পর্যায়ে সেরার মুকুট মাথায় পরে নটর ডেম কলেজ, ঢাকা এবং রানার্সআপ হয় ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ডিবেটিং ক্লাব এবং রানার্সআপ হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।
১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
এফ. এইচ. হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি আল-আমিন বিজয়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ড. সগীর আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনসহ শিক্ষা, প্রশাসন ও করপোরেট জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, যুক্তি, বিজ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অপরিহার্য। এই উৎসব তরুণদের প্রশ্ন করতে শেখায় এবং বিজ্ঞানের আলোয় সমাজকে দেখার এক সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
আয়োজকরা জানান, এই উৎসব কেবল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেনি, বরং একটি চিন্তাশীল, মানবিক ও দায়বদ্ধ আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।