স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ হলের রবীন্দ্রভবন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় © সংগৃহীত
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১২ জানুয়ারি (সোমবার) জগন্নাথ হলে স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩তম জন্মোৎসব উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাল্যদান, বিশেষ প্রার্থনা সভা প্রভৃতি।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে হলের রবীন্দ্রভবন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. পরিতোষ মন্ডলের সভাপতিত্বে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল সম্মানিত অতিথি এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. তাপস কুমার বিশ্বাস, ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মিঠুন সরকার এবং বাংলাদেশ বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সহসভাপতি ড. কালিদাস ভক্ত বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বিশ্বাস স্বাগত বক্তব্য দেন।
বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের উপদেষ্টা স্বপন কুমার বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হরষিত মন্ডল, কোষাধ্যক্ষ জুড়োন সরকার নয়ন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপপরিচালক বিধান চন্দ্র হালদার, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতি সাধন কুমার সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভোলানাথ মিস্ত্রী এবং সাধারণ সম্পাদক জয় সেন রায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বৈদিক শান্তিমন্ত্র পাঠ করেন সচ্চিদানন্দ পাল স্মরণ। প্রণয় বাড়ৈ ও ধ্রুব দত্ত অন্তর অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।
প্রো ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের জীবন-দর্শনের অন্যতম দিক হলো আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য। বর্তমান সমাজে বিবেকানন্দের দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার দর্শনচর্চার মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও লিঙ্গের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা সম্ভব। সামাজিক বৈষম্যের অবসান এবং সততা ও ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সবাইকে প্রকৃত মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থীকে বিবেকানন্দ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বার্ষিক মুখপত্র ‘জ্ঞানদীপ’-এর মোড়ক উন্মোচন এবং বিবেকানন্দ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জগন্নাথ হলের কর্মচারী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।