ঢাবিতে আর্চারি ট্রেইনিং প্রোগ্রামে © সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আর্চারি ট্রেইনিং প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি এবং উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। গতকাল শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রোগ্রাম চালু হয়।
এই আর্চারি ট্রেইনিং প্রোগ্রামটির আয়োজক জহিন ফেরদৌস জামি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন।
প্রোগ্রামটির ট্রেইনার হিসেবে রয়েছেন বিকেএসপির ন্যাশনাল মেডেলিস্ট ও অভিজ্ঞ আর্চারি কোচ মোহাম্মদ আশরাফ। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল ফিল্ডের সুইমিং পুল সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলাভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ক্লাবের প্রচারণার অংশ হিসেবে এই ট্রেইনিং প্রোগ্রামটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে আয়োজক জহিন ফেরদৌস জানান। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মেয়েদের জন্য এবং সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ছেলেদের জন্য সময় রাখা হয়েছে।
এবিষয়ে আর্চারি ট্রেইনিং প্রোগ্রামটির আয়োজক জহিন ফেরদৌস জামি বলেন, আর্চারি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতা বাড়ায় এবং পড়াশোনার চাপ সামলাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি শারীরিক ফিটনেস, আত্মবিশ্বাস ও ডিসিপ্লিন গড়ে তোলে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, প্রথম দিনেই এই আর্চারি ট্রেইনিং প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে আর্চারি শেখার জন্য অংশগ্রহণ করেন, যা ক্যাম্পাসে নতুন খেলাধুলাভিত্তিক উদ্যোগের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের প্রতিফলন।
এই আর্চারি ট্রেইনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নুজহাত তন্নী বলেন, সত্যি বলতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমবার আর্চারি শেখার সুযোগ পাবো এটা কখনো ভাবিনি। প্রথম দিন তীর হাতে নেওয়ার সময় একটু নার্ভাস লাগলেও ধীরে ধীরে ভয়টা কেটে গেছে, আর ভেতরে একটা ভালো লাগা কাজ করেছে। আর মেয়েদের জন্য আলাদা সময় রাখাটা আমাদের জন্য অনেক স্বস্তির খোলামনে, কোনো চাপ ছাড়াই শেখার সুযোগ পাওয়াটাই এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপার।