হল সংস্কারের পর খুলবে ক্ষতিগ্রস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

২৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৪ AM , আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৫, ১১:২২ AM
লোগো

লোগো © টিডিসি ফটো

কোটা সংস্কারপন্থী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে দেশের সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাদ যায়নি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আসতে থাকে একের পর এক বন্ধের বিজ্ঞপ্তি। যে আন্দোলন নিয়ে এতো উত্তেজনা, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি—আপিল বিভাগের রায়ে সে আন্দোলন দেরিতে হলেও এখন অনেকটাই সফল। তবে আন্দোলনে সফলতা আসলেও আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় বন্ধ হওয়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো বন্ধই রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা বলছেন, কোটা আন্দোলনে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এগুলো আগে সংস্কার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হলে উপাচার্যরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এতে কি পরিমাণ সময় লাগতে পারে তা কেউই নিশ্চিত নন। আপাতত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপের চেষ্টা চলছে। ক্ষয়ক্ষতির চিহ্নিত করা গেলে তারা ইউজিসির কাছে আর্থিক বরাদ্দের আবেদন করবেন।

গতকাল শুক্রবার (২৬ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল এবং স্যার এ এফ রহমান হল পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে প্রায় ৩০০টি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হলগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিকট হতে আর্থিক বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে হলগুলো সংস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলকে কেন্দ্র করে সহিংতার মধ্যে গত ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগের দিন ১৬ জুলাই রাতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, কোটা আন্দোলনকে ঘিরে আদালতের রায়ে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটার পরিবর্তে মাত্র ৭ শতাংশ নির্ধারণ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ; মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ; ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে এ রায় দেওয়া হয়। তবে সরকার প্রয়োজন ও সার্বিক বিবেচনায় আদালত নির্ধারিত কোটা বাতিল, সংশোধন বা সংস্কার করতে পারবে বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আপিল বিভাগ।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে, কোটা ৭ শতাংশ

ইউজিসি বলছে, কোটা আন্দোলন এখন শেষ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা একটা উপযুক্ত রায় পেয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়েছে। এখন আবার পরিস্থিতি সাবেক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দিতে হবে।  আন্দোলনে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে ব্যাপক ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো আগে সংস্কার করতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম, গত কয়েকদিনের অরাজক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আবাসিক হলগুলো শিক্ষার্থীদের বসবাসের উপযুক্ত করে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হবে। সরকারও চায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যাক। আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম চালু করবো।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, দেশের বর্তমান যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আগে সেটা স্বাভাবিক হতে হবে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারবো না, আমাদের শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তাও নিশ্চিত হতে হবে। এগুলো হওয়ার পর আমরা সিন্ডিকেট মিটিং ডাকবো। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এটা নিয়ে আপাতত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, সহিংসতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের হলগুলোতেও ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। বিভিন্ন হলের ১৫৮টি কক্ষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন ক্যাম্পাস খুলতে হলে একটা সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও হলগুলোকে বসবাসের উপযোগী করে ক্যাম্পাস খুলতে হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে এখনো কোনো ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকারও। শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা এই মুহূর্তে বিবেচনা করতে পারছি না।

জানতে চাইলে ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনার উপর ভিত্তিতে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বন্ধের চিঠি দিয়েছিল। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে ইউজিসি সে সময় এ পদক্ষেপ নিয়েছিল। এখন আসলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ বা খোলার সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। আন্দোলন চলাকালে ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এগুলো আগে সংস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সংস্কারে আর্থিক বরাদ্দেরও ব্যাপার আছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা তাদের সে অর্থ সরবরাহ করবো।

সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যে ১২ জেলায় ৮০ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের …
  • ২১ মে ২০২৬
ইবোলা আতঙ্কে ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা, …
  • ২১ মে ২০২৬
বিশ্বকাপের জন্য তারকাখচিত দল ঘোষণা মিসরের, কারা আছেন
  • ২১ মে ২০২৬
কখনো কলেজে না পড়লেও ৫ ভাষায় কথা বলতে পারেন মেসি
  • ২১ মে ২০২৬
৪৪তম বিসিএসের ১০১ নন-ক্যাডারের মনোনয়ন বাতিল, জানা গেল কারণ
  • ২১ মে ২০২৬
নাবিল গ্রুপ নিয়োগ দেবে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার, পদ ১০, আবেদন…
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081