‘নীহারিকা’ কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ ও সাজিয়া ফারহানা প্রাপ্তি © সংগৃহীত
ক্যানসারে অকালপ্রয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিয়া ফারহানা প্রাপ্তির জন্মদিনে প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা কবিতার সংকলন ‘নীহারিকা’র পিডিএফ সংস্করণ। বন্ধুদের উদ্যোগে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে তার ২২টি কবিতা ও অসুস্থতার দিনগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘ক্যানসার জার্নি’, যা প্রাপ্তির অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে।
অতি শিগগির বইটির মুদ্রিত সংস্করণও প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।
প্রাপ্তির নিজ বিভাগের সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, সাজিয়া ফারহানা প্রাপ্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু স্বপ্নের ক্যাম্পাস জীবন শুরুর আগেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা এবং সফল বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট শেষে সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন তিনি। ফিরে এসে অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে আইন বিভাগে ক্লাসও শুরু করেছিলেন। বন্ধুমহলে তিনি ছিলেন একান্ত আপন ও প্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। নিজের কঠিন ও খারাপ সময়ের মাঝেও তিনি তার প্রাণবন্ত হাসিতে চারপাশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করতেন।
অকাল প্রয়াণ ও অসম্পূর্ণ স্বপ্ন
নিয়তির নির্মম পরিহাসে একই বছরের (২০২৫) নভেম্বরের শেষদিকে প্রাপ্তি আবার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। ছোট এই জীবনে পড়াশোনা ও অন্যান্য অর্জনের পাশাপাশি প্রাপ্তি নিয়মিত কবিতা লিখতেন। তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল নিজের লেখা নিয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ এবং একটি উপন্যাস প্রকাশ করার। কিন্তু বই প্রকাশের আগেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
বন্ধুদের ভালোবাসায় ‘নীহারিকা’র প্রকাশ
প্রাপ্তির সেই অসম্পূর্ণ ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতেই এগিয়ে আসেন তার বিভাগের বন্ধুরা। বিশেষ করে সহপাঠী তাহমিদুর রহমান সাদের দিনরাত পরিশ্রমে এবং বন্ধুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকাশিত হয়েছে এই কাব্যগ্রন্থ। উল্লেখ্য, ‘নীহারিকা’ নামটি প্রাপ্তি নিজেই নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন।
বইটিতে স্থান পাওয়া ২২টি কবিতায় মানবমনের বিচিত্র অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
কবিতাগুলোর মূল উপজীব্য হলো:
স্বপ্ন আর কল্পনার সাথে বাস্তবতার দ্বন্দ্ব
ভালোবাসা এবং প্রকৃতির সাথে মানবমনের গভীর সম্পর্ক
বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা
স্বপ্নহীনতার মধ্যেও স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা
স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষুদ্র প্রয়াস
কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের নেপথ্যের কারিগর তাহমিদ সাদ বলেন, ‘প্রাপ্তির অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে পূর্ণ করাই এই বই প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য।’
বইটির ভূমিকায় প্রিয় বন্ধুকে স্মরণ করে আইন ৫১তম ব্যাচের তার সহপাঠীরা আবেগঘন ভাষায় বলেন, ‘এই বই একটি প্রিয় মুখের স্মৃতিকে ধারণ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা আমাদের কাছে স্মৃতির মতো মূল্যবান। কারণ, এর সাথে মিশে আছে একজন সুন্দর হৃদয়ের মানুষের অমলিন উপস্থিতি।’