অপরিপক্ব আম-লিচু পাড়ছেন রাবি শিক্ষার্থীরা, নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাগ-বস্তায়

০৫ মে ২০২৪, ০৩:১৫ PM , আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪১ PM
অপরিপক্ব আম-লিচু পাড়ছেন রাবি শিক্ষার্থীরা

অপরিপক্ব আম-লিচু পাড়ছেন রাবি শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি ফলের বাগান রয়েছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছুসংখ্যক আম-লিচুর বাগান ইজারা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার আশপাশের সবগুলো আম ও লিচু গাছ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় এসব অপরিপক্ব আম-লিচু পাড়া নিয়ে চলছে একরকম অসুস্থ প্রতিযোগিতা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিপক্ব হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা ব্যাগ-বস্তা ভরে অপরিপক্ব লিচু, হিমসাগর, ফজলি, নাক ফজলি, ল্যাংড়া জাতের আমগুলো পেড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমগুলো পাকা তো দূরের কথা, নরম আঁটিসহ আম পেড়ে ব্যাগ-বস্তা ভারি করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের একটি অংশের এমন কাণ্ড দেখে এটাকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে উল্লেখ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ জাতের আম এখনো ঠিকমতো পরিপক্ব হয়নি। এমনকি বীজে ঠিকমতো আঁশই তৈরি হয়নি; আর লিচুতে আঁটি ছাড়া আর কিছুই নেই— সেই সাথে অনেক টক। এমন অপরিপক্ব ফল পাড়তে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের পেছনের গাছগুলোর নিচে শিক্ষার্থীদের একটা জটলা দেখা গেছে।

কারও হাতে ইটের বড় খোয়া, আবার কারও হাতে গাছের ভাঙা ডাল। এগুলো দিয়ে গাছগুলোতে ঢিল মেরে ফল পাড়ার চেষ্টা করছেন তারা। এতে করে গাছে থাকা অনেক ফলই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীকালে পচে যাচ্ছে। এছাড়া ঢিল ছোঁড়ায় আশেপাশে চলাচলরত শিক্ষার্থীদেরও সমস্যা হচ্ছে। ঢিল এসে শরীরে লাগার ভয়ের মধ্য দিয়ে গাছতলা পার হতে হচ্ছে তাদের।

মাহির আলম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসের আমগাছগুলো থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী দলবেঁধে আম পাড়ছেন। কিছু শিক্ষার্থী না বুঝেই ফজলি, নাক ফজলি, ল্যাংড়া প্রভৃতি আম পেড়ে রুমে নিয়ে যাচ্ছেন পাকিয়ে খাবেন বলে। কিন্তু তারা এতটাই অজ্ঞ যে, এই আমগুলো এখনই পাড়ার সময় হয়নি। আর একজনে ১০০ জনের হক মেরে খাওয়ার প্রথা তো আছেই। ঠিকমতো খেতে পারুক আর না পারুক অনেকে অর্ধেকই নষ্ট করে ফেলে।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পী বলেন, এই অপরিপক্ব আম-লিচু পেড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কিছু শিক্ষার্থী নিচু মনমানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। আর কয়েকদিন পর তো এগুলো আমরাই খাব। এই অপরিপক্ব আম-লিচু খেয়ে তারা কী সাধ পাচ্ছে বিষয়টি আমার বোধগম্য না। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মো. আসহাবুল হক বলেন, এমন অভিযোগ আমিও পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবার প্রশাসন সৈয়দ ঈসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত আম, লিচু ও কাঁঠাল গাছগুলো ইজারা দেয়নি। তবে আমি শুনতে পেয়েছি, কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী অপরিপক্ব অবস্থায় আম বস্তা ভরে পাড়ছে।

তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থীরা আবার শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে আম, লিচু, কাঁঠাল বস্তা ভরে নিয়ে আসছে। আমি একটা ফোন পেয়ে গতকাল সন্ধ্যার আগে রাকসু ভবনের সামনে গিয়ে দেখি ৮-১০ শিক্ষার্থী প্রায় ৪-৫ কেজি বাচ্চা লিচু পেড়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলাম, কী করবে এগুলো দিয়ে? তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকল। আমরা যদি আর ১৫ দিনের জন্য আম-লিচু পাড়া থেকে বিরত থাকতে পারি, তাহলে এগুলো পরিপক্ব হয়ে যাবে। তাই শিক্ষার্থীদের বলব, তারা যেন আম-লিচু পরিপক্ব হওয়ার সুযোগ দেয়।

অনির্দিষ্টকালের বন্ধ সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
সংসদ থেকে ওয়াক-আউট, যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
স্বামীর কাছে যাওয়ার আগের দিন ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল গৃহবধূর লাশ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
ব্যক্তি উদ্যোগে মহাসড়ক থেকে ময়লার স্তুপ অপসারণ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিস সূচি পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তিটি ভু…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence