চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চবির ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ ভবন © ফাইল ছবি
দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ ভবন উদ্বোধনে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রথম চিঠির জবাবে পূর্ণ ব্যাখ্যা না পেয়ে ফের চিঠি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নূর আহমদ বরাবর দেওয়া ওই চিঠিতে ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. গোলাম দস্তগীর স্বাক্ষর করেছেন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ইউজিসির দ্বিতীয় চিঠিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির ‘মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন ও প্রকল্প প্রস্তাবের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্থবরাদ্দের সত্যায়িত অনুলিপি কমিশনকে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে উদ্বোধনে ব্যয় করা সম্পূর্ণ অর্থের খাতভিত্তিক প্রমাণসহ বিস্তারিত তথ্য কমিশনকে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
এর আগে, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের এই একাডেমিক ভবন গত ৪ জুন উদ্বোধন করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবন গত এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেন ঠিকাদার।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি দপ্তরের নথিপত্রে দেখা যায়, ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে যে কমিটি করা হয়, সে কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার। দুই দফায় তিনি অনুষ্ঠানের জন্য টাকা নেন। প্রথমবার নেন ৩০ মে। অনুষ্ঠানের পর ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবারও টাকা নেন প্রক্টর।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর উদ্বোধনের খরচের ব্যয়বিবরণী চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। পরে ২৪ ডিসেম্বর এ চিঠির জবাব দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রথম চিঠির জবাবে চবির পূর্ণ বিবরণ পায়নি ইউজিসি। এবার তাই বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউজিসির প্রথম চিঠির জবাবে গত ২৪ ডিসেম্বর চবি কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের উদ্যোগেই এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাজসজ্জা, আপ্যায়ন, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণসহ নানা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রকল্প ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, ফাইন্যান্স কমিটি এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে উক্ত অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এই ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম মেনেই অভ্যন্তরীণ অডিটও সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) যথাযথ তথ্য প্রদান করা হবে বলেও জানায় চবি প্রশাসন।
দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়ার বিষয়ে ইউজিসির অর্থ ও হিসাব বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, আগের চিঠিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছিল, একটি প্রকল্প থেকে এ খরচ করা হয়েছে। তবে ওই প্রকল্পের প্রামাণিক কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। তাই আবার চিঠি দিয়ে এসব চাওয়া হয়েছে।