ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
বিদায়ী বছরজুড়ে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল নানা আলোচনা-সমালোচনায়। বছরের শেষে সব থেকে আলোচনার মধ্যে ছিলো উপাচার্যের মেয়াদ শেষ ও নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ। এছাড়া আলোচনার মধ্যে ছিলো বিশেষ সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব লজ প্রদান, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসন সংকট নিরসন, মেট্রো স্টেশনের উদ্বোধন।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থেকেছে বিভিন্ন সমালোচনামূলক ঘটনার কারণে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রলয় গ্যাংয়ের উত্থান-পতন, হিজাব ইস্যু, ঢাবি উপাচার্যের স্বজনপ্রীতি, ঢাবিতে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মুখোমুখি অবস্থান, ঢাবির বিভিন্ন ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের তালা, শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ। এছাড়া মল চত্বরকে কনক্রিটের নগরে স্থাপন করা নিয়ে উত্তপ্ত ছিল ঢাবি ক্যাম্পাস। এ সকল ঘটনা নিয়ে সাজানো এ সালতামামি।
বিশেষ সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধুকে ডক্টর অব লজ প্রদান
জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে (মরণোত্তর) ডক্টর অব লজ প্রদান করা হয়। গত ২৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মারক ক্রেস্ট ও কোটপিন সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বিশেষ সমাবর্তনে প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট এবং অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তিনি।

নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ
গত ৪ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২৯তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। গত ১৫ অক্টোবর ২০২৩ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর আর্টিকেল ১১ (২) ধারা অনুযায়ী তাকে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।
অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ২০২০ সালের জুন মাস থেকে উপ-উপাচার্যের (একাডেমিক) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর পূর্বে ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন তিনি এবং একই বিভাগে ২০১০ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

আবাসন সংকট নিরসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর
আবাসন সংকট সমস্যা ঢাবি শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এ বছরটিও তার ব্যতিক্রম নয়। ঢাবির অন্যতম বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল নানা অব্যবস্থাপনা ও হল প্রশাসনের অবহেলায় জর্জরিত। ২০০৬ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও হলটির শিকদার মনোয়ারা ভবনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে আসছিল। হলটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি রয়েছে সিট সংকটও। হলের সার্বিক সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কাছে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ ছাত্রীদের।
অবশেষে গত ২২ ডিসেম্বর , ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, আবাসন সংকট, নানাবিধ সমস্যা নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়টি হল প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে ২৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নির্দেশে ঝুকিপূঁর্ণ মনোয়ারা ভবনের ১০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ জনকে অন্যান্য হলে স্থানান্তর করে কুয়েত মৈত্রী হল প্রশাসন। কুয়েত মৈত্রী হলের প্রধান ভবনে ৩৮ জন, ফয়জুন্নেসা ছাত্রীনিবাসে ৩২জন, সুফিয়া কামাল হলে ১০ জনসহ মোট ৮০ জন শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে।

ঢাবি প্রলয় গ্যাং এর উত্থান-পতন
ঢাবিতে আতংকের একটি নাম প্রলয় গ্যাং। ঢাবি ক্যাম্পাসে মারামারি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের বেছে বেছে সেই গ্যাংয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হতো। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশু চত্বরের পাশে নিয়মিত মাদকের আসর বসাতো এর সদস্যরা। তার নামও দেয়া হয়েছিলো ‘নিকুম্ভিলা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের তৃতীয় তলায় তারা গ্যাংয়ের কার্যালয় বানিয়েছিলো। এই গ্যাংয়ের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
গত ২৫ মার্চ রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় প্রকাশ্যে অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের জুবায়ের ইবনে হুমায়ুন নামে এক শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করেন এ দলের সদস্যরা। জুবায়ের স্যার এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর খোঁজ নিতে গেলে বেরিয়ে আসে এ গ্যাংয়ের আসল রহস্য।
গ্যাংয়ের নেতৃত্বে ছিলেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র মাহিন মুনাওয়ার, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নের তবারক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের সিফরাত সাহিল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও দর্শন বিভাগের অর্ণব খান, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাদমান তাওহিদ বর্ষণ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের হেদায়েতুন নুর, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সৈয়দ নাসিফ ইমতিয়াজ, ইতিহাস বিভাগের বদরুজ্জামান সজীব, মার্কেটিং বিভাগের বিপ্লব হাসান জয় ও মোহাম্মদ শোভন, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের শাহ আলম, মাস্টারদা সূর্য সেন হলের তৌসিফ তাহমিদ অর্পণ ও নাজমুল হোসাইন, কবি জসীম উদ্দীন হল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাদ, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের তাহমিদ ইকবাল মিরাজ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবু রায়হান ও জগন্নাথ হলের প্রত্যয় সাহা।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মারধর এবং অন্যান্য অপরাধে কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে হল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়ের ইবনে হুমায়ূনকে মারধরের ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় প্রলয় গ্যাংয়ের ১৪ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ২ জনকে ২ বছর, ৮ জনকে ১ বছর এবং বাকি ৪ জনকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এভাবে প্রলয় গ্যাংয়ের পতন ঘটে।
মল চত্বরকে কনক্রিটের নগরে স্থাপন করা নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ঢাবির শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর স্মৃতি হিসেবে মল চত্বরে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি শতবর্ষী স্মৃতিস্তম্ভ। ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৩০ ফুট প্রস্থ এবং ২৫ ফুট উচ্চতার এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে অনেক গাছের শিকড় কাটা পড়েছে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর মনুমেন্ট তৈরির কাজের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ঢাবির নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাকসুদ কামাল নিয়োগ পাওয়ার পরেই নকশায় কিছু পরিবর্তন আনেন। সদ্য কাজ শেষ করা বেশ কিছু জায়গা ভেঙে সেখানে সবুজায়নের ঘোষণা দেন তিনি। এটা নিয়ে আবারও চলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে মল-চত্বরকে ‘মুক্তিযোদ্ধা চত্বর’ হিসেবে বিনির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কাজ শেষ হয় নি।
নতুন প্রক্টর নিয়োগ
এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান। এর আগে তিনি সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মুখোমুখি অবস্থান
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ছাত্রদলের কটূক্তিকে কেন্দ্র করে গত ২৩ ও ২৪ মে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর যেকোনো মূল্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘোষণা দিয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সেইসঙ্গে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তাদের প্রতিহত করতে প্রস্তুত ছাত্রলীগ। ফলে সহিংসতার আশঙ্কায় থমথমে ছিল ক্যাম্পাস। গত সাড়ে চার বছরে ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের বাধায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি ছাত্রদল। একাধিকবার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তারা।
কিন্তু চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশকে বাধ্যতামূলক হিসেবে দেখছিলো ছাত্রদল। তাই গত ২৫ অক্টোবরকেই ক্যাম্পাসে প্রবেশের উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিয়েছিল তারা।
এদিকে ছাত্রদলকে প্রতিহত করতে রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করে ছাত্রলীগও। ঢাবির প্রতিটি হলে ছাত্রলীগের নেতারা গিয়ে কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। ২৪ অক্টোবর থেকেই ক্যাম্পাসের প্রতিটি হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছিল পাহারায়। নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করতে ঐ রাতেই ঢাবির প্রতিটি হলে ছাত্রদল ও শিবিরের বিরুদ্ধে একযোগে মিছিল করে ছাত্রলীগ।
টিএসসিতে স্বপ্নের মেট্রোরেল যাত্রা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মেট্রো স্টেশনটি গত ১৩ ডিসেম্বর চালু করা হয়।। বিজয়ের মাসে সঙ্গীত নৃত্যে আর রঙ উৎসবের মধ্যদিয়ে স্টেশন চালুর আনন্দ উদযাপন করা হয়। লাল সবুজের বিজয় গাথা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। বছরের শুর থেকেই টিএসসিতে মেট্রোরেল স্টেশন স্থাপন নিয়ে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মধ্যে। শাহবাগে স্টেশন থাকার পরও টিএসসি স্টেশন হলে বহিরাগতদের আগমনে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হবে বলে যুক্তি ছিল তাদের।

বিদায়ী উপাচার্যের স্বজনপ্রীতি
এ বছর আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের স্বজনপ্রীতির খবর। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দায়িত্ব পালনের সময় নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজ এলাকা বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নিয়োগ বোর্ড সূত্র জানায়, বরিশাল অঞ্চলের লোকজন যাতে নিয়োগ পান সে জন্য নিয়োগ বোর্ডে তদবির করতেন উপাচার্য, উপাচার্যের স্ত্রী, ছেলে ও ভাগনে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এ অভিযোগ সত্য নয়।
ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদাবাজি
বছরের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিনতাই, চাঁদাবাজির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এসব ঘটনায় থানায় মামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকটি ঘটনার মামলার এজাহার এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রায় সবাই ছাত্রলীগের। এছাড়া নানান সময় চাঁদাবাজি করে আটক এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন অন্তত ১৫ জন। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদাবাজির ঘটনায় অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হাসান সোহাগকে অব্যাহতিসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।
ককটেল বিস্ফোরণ ও ফটকে তালা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান বিএনপির ডাকা অবরোধ সমর্থনে নভেম্বরে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার প্রভাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা যায়। গত ১৫ নভেম্বর টিএসসি সংলগ্ন রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকার। এছাড়া উপাচার্যের বাসভবনের সামনের রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর রাতে স্যার এ এফ রহমান হল সংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

নির্বাচনের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীর একক অবস্থান
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনসহ চার দফা দাবিতে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। ৩০ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন তিনি।
তার চারদফা দাবিগুলো হলো- একদলীয় সরকারের অধীনে ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করে নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে ও সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে; জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে; গুম, খুন, নির্যাতনের বিচার করতে হবে ও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। সকল নাগরিকের নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে; রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকোচন বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
তবে ওই শিক্ষার্থী দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করার কথা জানালেও তার পরিবার তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কফিশপে আততায়ীর গুলিতে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আততায়ীর গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আবির হোসেন নিহত হয়েছেন। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টার দিকে দেশটির টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি কফিশপে এ ঘটনা ঘটেছে। আবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি লামার ইউনিভার্সিটিতে গ্র্যাজুয়েট গবেষণা সহকারী হিসেবে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান বলেন, আমার অত্যন্ত প্রিয় ও স্নেহভাজন শিক্ষার্থী শেখ আবির হোসেন আজ সকাল ৯টায় আততায়ীর গুলিতে মারা গেছেন। টেক্সাসে একটি কফিশপে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আবিরের এ অকাল মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ আমাদেরকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
