ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে © ফাইল ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত ১২ আগস্ট প্রকাশিত সমাবর্তন বিষয়ে একটি নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের স্নাতক শ্রেণির ২০১৫ সালের পরীক্ষার্থীরা এই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। অথচ ২০১৪ সালের মাসটার্সের পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে কিছু বলা নেই। অথচ এই ব্যাচটিও ঢাবি অধিভুক্ত হওয়ার পর মাস্টার্স পাস করেছেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব বিরাজ করছে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রইস উদ্দীন বলেন, ‘ঢাবি প্রশাসন সমাবর্তনের নোটিশ দিয়েছে গত মাসের ১২ তারিখ। ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১২ আগস্ট রবিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অথচ এই সময়ের প্রায় পুরোটা জুড়ে কলেজগুলো বন্ধ ছিল। আমরা আমাদের কলেজগুলো থেকে পৃথক নোটিশ পেয়েছি অনেক পরে। পরে কলেজে ফিরে আবেদন করতে করতে আবেদনের সময় পার হয়ে গেছে।’
ইডেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিমা ইয়াসমিন বন্যা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালের মাসটার্সের পরীক্ষার্থী। কিন্তু ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার পর আমরা ঢাবির অধিনেই মাসটার্স পরীক্ষা দিয়েছি। মাসটার্সের ফল প্রকাশ হয়েছে গত মার্চ মাসে। অথচ আমাদেরকে সমাবর্তনের জন্য ডাকা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘নোটিশে আমাদের অংশ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এ নিয়ে আমরা দ্বিধায় রয়েছি। আমরা কি আদৌ সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবো না? কারণ, যারা স্নাতক পাস করেছেন তারা অংশ নিতে পারলেও আমরা কেন পারবো না ? তাছাড়া, স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থীদের তো আগামীবার অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা তো স্নাতকোত্তর পার করেছি। সে হিসেবে অগ্রাধিকারতো আমাদের।’
সাত কলেজের স্নাতকোত্তর-২০১৫ সালের পরীক্ষার্থীরা কেন ৫১তম সমাবর্তনে অংশ নিতে পারছেন না, সাত কলেজের সমন্বয়কারী ঢাবির বাণিজ্য অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তিনি বলেন, ‘মূলত সাত কলেজ এবার ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার কারণে বিশাল একটি অংশ সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া প্রায় দেড় বছর পরে এই সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এই সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছে। হয়ত এ কারণেই এবার কোনও একটি ব্যাচকে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে আসলে কেউ সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত হবেন না বলেই আমি জানি।‘
তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারবেন না জানিয়ে বলেন, ‘যারা এবার অংশ নিতে পারছেন না তাদেরকে হয়ত আগামী বছর সুযোগ দেওয়া হতে পারে।’
অন্যদিকে একই প্রশ্ন উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের কাছে করা হলে তিনি এ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জানতে চাওয়ার জন্য বলেন।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরীর কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে- তিনি ‘আগামী বছর পারবে’ বলেই ফোন লাইন কেটে দেন।
এদিকে ঢাবির খেলার মাঠে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণের সুযোগ কেন দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে ঢাবি উপাচার্য বলেন,’ এত বিশাল সংখ্যাক শিক্ষার্থীদেরকে এক মাঠে জায়গা দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে নিজ নিজ ক্যাম্পাসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।