ইউজিসি সদস্য ড. আসলাম
বক্তব্য রাখছেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন © সংগৃহীত
প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে গবেষণার সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। তিনি বলেছেন, শুধু গবেষণা করলেই হবে না; গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণাপদ্ধতি, ফলাফল বিশ্লেষণ থেকে আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশ—প্রতিটি ধাপেই গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘ফ্রম রিসার্চ আইডিয়া টু কিউ১ জার্নাল পাবলিকেশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আসলাম হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সেমিনার কক্ষে আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট পিআইএন: সি-৫৩-এর উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক আসলাম হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। আর সেই জ্ঞান সমাজ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কার্যকর মাধ্যম মানসম্মত গবেষণা প্রকাশনা। গবেষণা কেবল গবেষণাগার বা ব্যক্তিগত নথিতে সীমাবদ্ধ থাকলে তার প্রকৃত মূল্য পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হলে তা একাডেমিক সমাজ, নীতিনির্ধারক, শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।
ইউজিসি সদস্য বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনা একে অপরের পরিপূরক। আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশিত হলে তা গবেষকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতারও প্রতিফলন ঘটায়। তিনি বলেন, নিয়মিত ও উচ্চমানের গবেষণা প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও একাডেমিক মর্যাদা বাড়ায়। পাশাপাশি বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে।
আরও পড়ুন: সরকারের ৬ মাসে শিক্ষা খাতে ৮ বিতর্ক, ১০ বড় পরিকল্পনা
বর্তমান সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আসলাম হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে তরুণ গবেষকদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। কিউ১ জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য নতুন ও সময়োপযোগী গবেষণা ধারণা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রকাশনার মানদণ্ড সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, গবেষণায় নতুন কিছু সৃষ্টি করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান ও গবেষণা নৈতিকতার ভিত্তি শক্ত করতে হবে। মাভাবিপ্রবিকে গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনারে গবেষণার উপযোগী ধারণা নির্বাচন, গবেষণার মানোন্নয়ন, কিউ১ জার্নাল নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল খালেক।