নেপালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন তরুণ অভিযাত্রী, সাইক্লিস্ট ও সমাজসেবক বীর কুমার তনচংগ্যা। © টিডিসি ছবি
কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথ পাড়ি দিয়ে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের তরুণ অভিযাত্রী, সাইক্লিস্ট ও সমাজসেবক বীর কুমার তনচংগ্যা।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার কবিতা চত্বর বিচ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ‘সি টু হিমালয়াস’ অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এই অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথ পাড়ি দিয়ে নেপালে পৌঁছে চারটি দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেইল—মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) ও এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি)—অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন বীর কুমার।
জানা যায়, কক্সবাজার থেকে যাত্রা করে তিনি প্রথমে ঢাকার দিকে যাবেন। এরপর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছাবেন।
বীর কুমার তনচংগ্যা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সাধারণত বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা বিমানে নেপাল গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল অভিযান শুরু করেন। কিন্তু আমি ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ কক্সবাজার থেকে সাইকেলে স্থলপথে নেপালে পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে চাই। এই অভিযান শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণের জন্য নয়; এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সৌন্দর্য ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাই। একই সঙ্গে দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করাও আমার অন্যতম উদ্দেশ্য।’
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর এই অভিযান শুরু করেছেন বীর কুমার। প্রয়োজনীয় অনুমতি, ভিসা ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাপ্তাই, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ঢাকায় একাধিকবার যেতে হয়েছে তাঁকে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি।
অভিযানের প্রস্তুতিতে দেশের পরিচিত সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং পর্বতারোহী বাবর আলীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বীর কুমার।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাই। বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে হিমালয়ের দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি দেশের জন্যও একটি বার্তা বহন করবে।’
৯০ দিনের ভিসায় বড় চ্যালেঞ্জ
এই অভিযানে বীর কুমারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসার সময়সীমার মধ্যে পুরো অভিযান সম্পন্ন করা। পাশাপাশি দীর্ঘ পথের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করাও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন তিনি।
বীর কুমার তনচংগ্যা কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
কক্সবাজার থেকে তাঁর যাত্রা শুরুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাপ্তাই ও রাঙামাটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বীর কুমার নিরাপদে তাঁর দীর্ঘ ও কঠিন অভিযান সম্পন্ন করে বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবেন এবং বিশ্বমঞ্চে উড়াবেন দেশের লাল-সবুজের পতাকা।
সাইকেলে ভারতের ১০ রাজ্য ভ্রমণ
বীর কুমার তনচংগ্যার সাইকেল অভিযানের অভিজ্ঞতাও বেশ সমৃদ্ধ। এর আগে তিনি সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ করেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন।
এছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং দেশের ৬৪টি জেলা সাইকেলে পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথে নেপাল এবং সেখান থেকে হিমালয়ের চারটি দুর্গম ট্রেইল জয় করার স্বপ্ন নিয়ে নতুন অভিযানে নেমেছেন বীর কুমার তনচংগ্যা। তাঁর এই যাত্রা শুধু একটি ব্যক্তিগত অ্যাডভেঞ্চার নয়, বরং লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও সৌন্দর্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস।