যে কারণে পাশের দেশ ভারতে চালু হয়নি স্টারলিংক

২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২ AM
স্টারলিংক লোগো

স্টারলিংক লোগো © সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিংক’ জনপ্রিয়তা পেলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতে এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা উদ্বেগ, অবৈধভাবে স্যাটেলাইট টার্মিনাল ব্যবহারের অভিযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ এবং দীর্ঘ নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার কারণে দেশটিতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথ জটিল হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি দেশীয় টেলিকম সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বও এ নিয়ে আলোচনায় এসেছে।

ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে অন্যতম বড় বাধা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্টারলিংকের টার্মিনাল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ও সেবা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের মণিপুরে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে সক্রিয় স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মাদক পাচারের একটি মামলায় ‘স্টারলিংক মিনি’ ব্যবহারের তথ্য সামনে আসার কথাও জানা গেছে। এসব ঘটনায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের বাইরেও বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় স্টারলিংকের সরঞ্জাম অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সুদান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্র, মিয়ানমারের সাইবার প্রতারণা চক্র এবং ইয়েমেনের মতো অঞ্চলে বিধিনিষেধ এড়িয়ে কালোবাজারে স্টারলিংকের কিট ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব নজিরের কারণে ভারতেও সেবাটি চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্টারলিংক টার্মিনালের অবস্থান শনাক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোবাইল অ্যাডভারটাইজিং আইডি বা এমএআইডি ব্যবহার করে গোপনে ব্যবহৃত স্টারলিংক টার্মিনালের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এমন প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে কী ধরনের তথ্য পাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি স্পেকট্রাম ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণও ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম বরাদ্দ, মূল্য নির্ধারণ ও সরকারি পর্যালোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি বিলম্বিত হচ্ছে।

এদিকে ভারতের দেশীয় টেলিকম সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্টারলিংকের ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্বও আলোচনায় রয়েছে। ইলন মাস্কের অভিযোগ, দেশীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বাজারের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রভাব খাটিয়ে স্টারলিংকের প্রবেশে বিলম্ব ঘটাচ্ছে। তবে ভারত সরকার এ অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, অন্য কোম্পানিগুলোর মতো স্টারলিংককেও নির্ধারিত নিয়ম ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

সব মিলিয়ে, ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পথে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব জটিলতা কাটিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও শর্ত পূরণ করতে পারলেই দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পথ সুগম হবে।

ফেসবুকে আসছে বড় পরিবর্তন, যে সুবিধা হারাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
মিসরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ পর্যটক নিহত
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
সকালে বাসি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদে মিলবে যেসব উপকার
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
যে কারণে পাশের দেশ ভারতে চালু হয়নি স্টারলিংক
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
মা-বাবার পর এবার প্রতিবেশী বিধবাকে মারধর, আবারও বহিষ্কার যু…
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকদের অক্টোবরের বেতনের প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে যা জানালেন …
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬